সানেমের সম্মেলনে অধ্যাপক রেহমান সোবহান
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির ফলে, দারিদ্র্য রেখার সামান্য ওপরে অবস্থান করা মানুষ কতটা নাজুক অবস্থানে আছে সেটি স্পষ্ট হয়েছে। তাদের সহায়তা করতে হবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্য নিরসনের ধারণা মূলত জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেটি নিয়ে চিন্তা করা দরকার। অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে কীভাবে একীভূত করা যায়—তা নিয়ে কৌশল প্রণয়ন করা দরকার।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) উদ্যোগে সানেম ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২০ শনিবার সমাপ্ত হয়েছে। সমাপনি দিনে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনের শেষ দিনে তিনটি সেশন আয়োজিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন, বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঁসোয়া বুরগিনিও, ইউএনইউ-ওয়াইডার পরিচালক অধ্যাপক কুনাল সেন এবং অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও সম্মেলনের আহ্বায়ক ড. সেলিম রায়হানের পরিচালনায় এই প্যানেল আলোচনায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহানও যোগ দেন।
আলোচনায় অধ্যাপক ফ্রাঁঁসোয়া বুরগিনিও বলেন, এই মহামারির ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে। লকডাউনের ফলে শিশুরা যে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে সেটি দীর্ঘ মেয়াদে তাদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে লকডাউনের প্রভাব নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সাধারণ মানুষ কাজ হারানোয় শহর থেকে গ্রামমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। কার্যকর সুশাসনের ওপর আরো জোর প্রদান করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বমূলক স্থানীয় সরকার সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনৈতিক খাতে শহুরে শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব না, যেটি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার এক ধরনের প্রতিবর্তন। অধ্যাপক কুনাল সেন বলেন, মহামারির ফলে দারিদ্র্য নিরসনের অর্জনগুলো বিফলে গেছে এবং বিশ্বায়নকে পিছু হটতে হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চলমান মহামারিতে এশিয়া ও আফ্রিকায় সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু মহামারির পরে সেটি কতটুকু জোরালো থাকবে সেটি প্রশ্নের সম্মুখীন।
