বরগুনায় দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আট বছর পর চার্জ গঠন

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৬

বরগুনায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এক মামলায় বরগুনা পৌর মেয়র মো. শাহাদাত হোসেনসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আট বছর পর অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন পৌর কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপন, তৌহিদুর রহমান, কাউন্সিলর আবু সালেহ, ফারুক সিকদার, চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগ ও মোহাম্মদ ইউসুফ। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মো. গাজী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠন করেন। আদালত আগামী ১০ অক্টোবর এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে ২০১২ সালে ২৪ জুন বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির আকতার হোসেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর আগে ২১ জুন সকালে শাহাদাত হোসেন ঐ আদালতের এজলাসে উপস্থিত হয়ে অপর দ্রুত বিচার আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান কামাল এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মরত বেঞ্চ সহকারী কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে জিআরও ফারুক হোসেনের কাছে ২০৭/২০১২ মামলার আদেশের বিষয় জানতে চায়। জিআরও ফারুক হোসেন বলেন ঐ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করা হয়েছে। এই কথা বলার পরে মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমার বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছে? সে কি ফাজলামো পেয়েছে?’’ ঐ সময় আইনজীবী রুহুল আমীনও ছিল। অফিস সহকারীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, মেয়র নাকি পাঁচ হাজার লোক নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিছিল করবেন। ঐ দিন শাহাদাত হোসেন বেলা পৌনে ১২টার সময় শতাধিক লোক জন নিয়ে আদালতের সামনে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি আদালতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। ঐ সময় মেয়র বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২৪ ঘণ্টার মধ্য বরগুনা ত্যাগ না করলে তিনি আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবেন। এমন অভিযোগ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরগুনা থানায় প্রেরণ করলে ২৪ জুন দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় এজাহার রুজু করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।