g ওহাব ওহী
বন্ধুদের নিয়ে আমাদের একটি চোর শিল্প সংগঠন আছ! যেহেতু চুরি বিদ্যা একটি মহা বিদ্যা, তাই এই পেশাকে আমরা সেই ১৯৫৩ সাল থেকেই মহান ইজ্জতের সহিত শিল্প পর্যায়ে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি! তখন আমাদের মাঝে মুরগি চোরের দায়িত্বটা বাহারামের উপরই ন্যস্ত হতো। সেই সময় আমজাদ চাচার বাড়িতে বড় বড় দেশি মুরগি ছিল। একদিন রাত ১২টার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হলো—আজ মুরগি চুরি করা হবে এবং তা আমজাদ চাচার বাড়িতেই। কথামতো বাহারামের সঙ্গে একজন সহযোগী চোরও পাঠানো হলো। সেই সঙ্গে একটি ভেজা গামছা। কথিত আছে, রাতের বেলায় মুরগির ওপর ভেজা গামছা দিয়ে ধরলে মুরগি আরাম পেয়ে আর কক কক শব্দ করে না! চুরি করতে সুবিধা হয়! বাহারাম যথারীতি ভেজা গামছা সমেত খোয়ারে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে। ধরেও ফেলেছে দিনের বেলায় দেখে আসা সবচেয়ে বড় মুরগিটা। এদিকে শিক্ষানবিশ সহযোগী চোর সোহেলের কাছে তা চালান করতেই ও সেটির গলা চেপে ধরে দিল এক দৌড়। শালার মুরগি শব্দ করে গেরস্থকে জানান দেবে; তা আর হতে দেব না! এই পণে সে যখন এক দৌড়ে সোজা মৈত্রী সংঘের ক্লাব মাঠের আয়োজন স্থলে উপস্থিত; তখন সে দৌড় ক্লান্তিতে হাঁপাচ্ছিল। তবে হাতে যথারীতি গলাচেপে মুরগিটি ধরা। কিন্তু একি! মুরগিটা নড়ছে না কেন? কোনো শব্দও তো করছে না! তো! তবে কি! সোহেল গলা ছাড়তেই সেটি নেতিয়ে মাটিতে ঝুলে পড়ল। আই মিন ততক্ষণে সেটি আর নেই! সোজা অক্কা পেয়েছে!
সাভার, ঢাকা
