করোনা ভাইরাসের মতো মহামারি রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বাইরে র্যালি করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তিনি দেশের স্বাস্থ্যবিধিও লঙ্ঘন করেছেন বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। কোনো কোনো চিকিত্সক বলছেন, প্রেসিডেন্ট হয়েও এমন কাজের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইলের
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তার অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে। তার চিকিত্সকরা রবিবার জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সোমবারই হোয়াইট হাউজে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নিজের সুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। রবিবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মুখে মাস্ক। সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে উঠে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে সেখান থেকে বেরিয়েও যান। যদিও পরে আবার হাসপাতালেই ফিরে এসেছিলেন তিনি। সমর্থকরাও তার সুস্থতা কামনা করে বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে হাজির ছিলেন।
মার্কিন মিডিয়া সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করছেন, হাসপাতালে থেকে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অসুস্থতা নিয়ে মিডিয়ায় বারবার প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ধারণা, এভাবে খবর প্রকাশ হলে তা আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউজে গিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে চান। এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সুস্থ তা দেশবাসীকে দেখাতেই বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি সোমবার সকালে টুইটার বার্তায় ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তাকে ভোট দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পরেও একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করতে পারলেন ট্রাম্প। তাতে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ঐ দিনই টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে দেখা যায়, কোভিডের চিকিত্সা চলাকালীন অনেক কিছুই শিখলাম, জানলাম। এটাই আসল বিদ্যালয়। বিষয়টি ভালোভাবে আত্তীকরণ করেছি।
ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা :করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন চিকিত্সাধীন ব্যক্তিকে কীভাবে চিকিত্সকরা বাইরে বের হওয়ার ছাড়পত্র দিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান চিকিত্সক রবার্ট ওয়াচারের মতে, ট্রাম্পের যে ধরনের উপসর্গ ধরা পড়েছে, কোনো রোগীর এমন উপসর্গ ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মধ্যে বাইরে যাওয়ার অনুমতি কোনোভাবেই দিতেন না। একজন চিকিত্সক হিসেবে এমন অনুমতি মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিত্সক উইলিয়াম স্যাফনার বলেছেন, ট্রাম্পকে সোমবারে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তার দাবি, এই ঘটনার পিছনে চিকিত্সকরা দায়ী নন, প্রেসিডেন্ট এবং তার রাজনীতিক সঙ্গীদের চাপেই হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ডিজাস্টার মেডিসিন বিভাগের প্রধান জেমস ফিলিপ্সের মতে, প্রেসিডেন্টের এই অপ্রয়োজনীয় সফরের কারণে সেসব মানুষকে এবার বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে, যারা তার সংস্পর্শে এসেছেন। তারা অসুস্থ হতে পারেন, আবার মৃত্যুও হতে পারে। আর এসবই শুধু রাজনৈতিক নাটকের জন্য। ট্রাম্প নাটকের খাতিরে এতজনের জীবন সংকটে ফেলে দিলেন। এটা সম্পূর্ণ পাগলামি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের উপসর্গ ধরা পড়ার পর এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারো কারো এর মধ্যে স্বাস্থ্যের অবনতিও হতে পারে। তাই এই সময়টা পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প ভর্তি হওয়ার দুই দনের মধ্যেই ছাড়া পাওয়ায় যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
