নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ‘বর্বরতার চরম সীমা’ দেখতে পাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, জঘন্য ঐ অপরাধে যারা যুক্ত, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই তারা পাবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, একজন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের কাজ করতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয় না। অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে আমরা সেই কাজটিই করব যাতে একটা সুন্দর তদন্ত রিপোর্ট আমাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনী দিতে পারে।
এমসি কলেজের ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার মধ্যে যারা লিপ্ত হয়েছেন, তারা জঘন্য অপরাধ করেছেন, শাস্তি তাদেরও পেতে হবে। তিনি বলেন, এমসি কলেজের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তার সব আসামিকে এরই মধ্যে ধরা হয়েছে। আর নোয়াখালীর ঘটনায় দুই জন ছাড়া বাকি সবাইকে ধরা হয়েছে। কোনো রকমের শৈথিল্য কিংবা গাফিলতি নিরাপত্তা বাহিনী দেখায়নি কিংবা করেনি।
নোয়াখালীতে নির্যাতনের সেই ঘটনা ঘটেছে এক মাস আগে, স্থানীয় প্রশাসন এতদিন কী করছে? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণত যারা ভিকটিম হয় তারা লুকিয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। যখনই আমাদের নজরে এসেছে, তখন থেকেই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুততার সঙ্গে তাদের ধরেছে।
দেশে বিভিন্ন যৌনপল্লি তুলে দেওয়া এবং পানশালার অবাধ অনুমোদন না থাকার সঙ্গে যৌন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে অনেক ব্রোথেল ছিল এক সময়। এখন দুই তিনটি আছে। আমাদের সমাজ এই ব্রোথেলকে সমর্থন করছে না। আমরা দেখেছি সমাজ থেকেই লোকজন বেরিয়ে এগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এগুলোর ভালো ও মন্দ দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। সমাজ যদি না চায় তখন আসলেই আমাদের কিছু করণীয় থাকে না বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া। মন্ত্রী বলেন, বার বা পানশালার ক্ষেত্রে সরকার লাইসেন্স দিয়েছে সীমিত আকারে। কিছু হোটেলকেও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা ক্লাবসহ কয়েকটি ক্লাবেরও পানশালা বা বারের লাইসেন্স রয়েছে। যারা নিয়মিতভাবে আমাদের সব শর্ত পূরণ করেছে, এ ধরনের কিছু বারকেই আমরা লাইসেন্স দিয়েছি। আমরা চিন্তাভাবনা করছি, আমাদের শর্ত পূরণ করে আবেদন করলে আমরা দেখব, আরো দেওয়া যায় কিনা।
