সব্যসাচী উত্তম ঘোষের ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:২৩

জাতীয় জাদুঘরের সামনের খোলা আঙিনায় শোভা পাচ্ছে বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে অবিসংবাদিত নেতার বিশালাকৃতির অবয়বটি। তর্জনী উঁচিয়ে তেজোদ্দীপ্ত অভিব্যক্তিতে ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শিল্পের আশ্রয়ে উপস্থাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক সাত মার্চের প্রেক্ষাপট। ভাস্কর্যটি গড়েছেন সব্যসাচী ভাস্কর উত্তম ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে গড়া ভাস্কর্যটি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে শিক্ষামূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হাসুমণির পাঠশালা।

বঙ্গবন্ধুকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ভাস্কর্য। তবে আঙ্গিক ও উপস্থাপনাশৈলীতে বিশেষত্ব পেয়েছে ভাস্কর্যটি। ফাইবার গ্লাস মাধ্যমে সৃজিত ১২ ফুট উচ্চতার অবয়বটি মেলে ধরেছে বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথা। স্বাধীনতার মহানায়কের অপরাজেয় মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে নির্মাণ কৌশলে। ভাস্কর্যটি গড়ার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার পানে ধাবিত হয়েছেন এই ভাস্কর। জাতির জনকের মুখাবয়ব, দাঁড়ানোর ভঙ্গিমা, জনতার উদ্দেশে তর্জনী তোলা কিংবা পরিধেয় পোশাক সহ সবকিছুতেই রয়েছে যত্নের ছোঁয়া। মৃত্তিকাকে স্পর্শ করে অন্তরীক্ষের অভিমুখী অবয়বের মাধ্যমে মেলে ধরেছেন নিপীড়িত জনতার অসম সাহসী নেতাকে। আর শুধু অবয়বের সাদৃশ্য অনুসরণের পরিবর্তে মুজিবের ব্যক্তিত্বের মহিমাকে প্রস্ফুটিত করেছেন সৃজন কৌশলে। বীররসের ভাবটি অবলম্বন করে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর রুদ্ররূপটি। ভাস্কর্য প্রদর্শনী নিয়ে উত্তম ঘোষ বলেন, আমার কাছে স্বদেশেরই প্রতিচ্ছবি শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ আর মুজিব একে অপরের সম্পূরক। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে ভাস্কর্যটি গড়ার উদ্যোগ নেই। ডিসেম্বর থেকে ধামরাইয়ে শুরু হয় এর নির্মাণ কাজ। পাঁচ মাসের দীর্ঘ শ্রমের ফসল এই শিল্পকর্ম। মূলত বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত রূপটিকে প্রকাশের চেষ্টা করেছি। জাতির পিতার প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেছি শিল্পের মাধ্যমে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া উন্মুক্ত আঙিনার এই ভাস্কর্য প্রদর্শনী চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

ছবি : সামসুল হায়দার বাদশা