কর ব্যবস্থাকে অটো-মেশনে আনার অংশ হিসেবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া ও কর পরিশোধ চালু করা হলেও হঠাত্ করেই তা বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দেওয়ার কথা। গত বাজেটে অর্থমন্ত্রী অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে ২ হাজার টাকা করে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই ব্যবস্থা ঠিক হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ঠিক হবে কি না, তাও বলতে পারছে না কেউ। ফলে সরকারের দেওয়া এই সুযোগ নিতে পারছেন না করদাতারা।
সূত্র জানিয়েছে, এই ইস্যুতে সামনে এসেছে ভিয়েতনামের আলোচিত সেই এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেমের নাম। ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার আলোচ্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করালেও তারা সব কাজ না বুঝিয়ে দিয়েই চলে গেছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনলাইনে কর দেওয়ার সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলসহ এসব সুবিধা চলমান রাখার বিষয়ে কী ব্যবস্থা ছিল—সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।
এনবিআরের এই প্রকল্পটি এখন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন সদস্য হাফিজ আহম্মেদ মুর্শেদ। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত জুলাই থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাচ্ছে না। এটি আগামী নভেম্বরের মধ্যে ঠিক হবে কি না তাও নিশ্চিত নয়। চিন্তাভাবনা চলছে অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার। তবে কোনোকিছুই এখনো ঠিক হয়নি।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসির সাবেক সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ও বর্তমানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, এটি কেমন চুক্তি ছিল যে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে? এনবিআরের ঐ প্রকল্পটি শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের উচিত হবে ভিয়েতনামের ঐ প্রতিষ্ঠান যেসব ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে, তার আইনি প্রতিকার চাওয়া এবং তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু থেকে থাকলে তা এনবিআরের হাতে নেওয়া। এই সময়ের মধ্যে নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পুরো কাজ আবার শুরু করা। কেননা ঐ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আর ভালো কিছু হবে বলে মনে হয় না।
