খুলনাকে কাঁদালেন ফ্রাইলিঙ্ক

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০২

আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর। পরপর দুদিন শ্বাসরোধী উত্তেজনার ম্যাচ উপহার দিল বিপিএল। শুক্রবার ঢাকা ডায়নামাইট-রংপুর রাইডার্সের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচ শেষ হয়েছিল শেষ বলে। সেই ম্যাচের তুলনায় গতকাল চিটাগং ভাইকিংস-খুলনা টাইটান্সের ম্যাচটি যেন আরও এক কাঠি সরেস। স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ম্যাচ টাই হয়েছিল। পরে বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এক ওভারের আকর্ষণীয় লড়াইয়ে অবিশ্বাস্য জয় পায় চিটাগং।

বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়েন দলের সবাই। শেরেবাংলার গ্যালারিও কেঁপে উঠেছিল ম্যাচের উত্তেজনায়। মূল ম্যাচ ও সুপার ওভারে চিটাগংয়ের জয়ের কান্ডারি রবি ফ্রাইলিঙ্ক। জয়ের আনন্দে, আবেগে হতবিহ্বল হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এ অলরাউন্ডারের কোলেই চড়ে বসেন চিটাগংয়ের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

অবশ্য এ দিন ২২ গজে ফ্রাইলিঙ্ক যা করেছেন তা অতিমানবীয় বটে! খুলনার দেয়া ১৫২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৯ রানের সমীকরণের সামনে পড়ে চিটাগং। আরিফুল হকের প্রথম বলে রান নিতে পারেননি নাঈম হাসান। দ্বিতীয় বলে মারেন ছক্কা। তৃতীয় বলে আউট হন তিনি। সাত নম্বরে নামা ফ্রাইলিঙ্ক স্ট্রাইকে এসে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে মারেন দুটি বিশাল ছয়। যদিও পঞ্চম বলটি কোমরের উপরে ছিল বলে বারবার আম্পায়ারদের কাছে দাবি করে আসছিলেন ফ্রাইলিঙ্ক।

কিন্তু অন ফিল্ড আম্পায়াররা থার্ড আম্পায়ারকে নো বল কিনা দেখতে বলেননি। শেষ বলে দরকার ১ রান। আরিফুলের স্লোয়ারে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি ফ্রাইলিঙ্ক। উইকেটকিপার কাছে থাকায় নন স্ট্রাইক থেকে সানজামুলের আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। সানজামুল আসলেও রান সম্পূর্ণ করার আগেই রানআউট হয়ে যান ফ্রাইলিঙ্ক। ১৩ বলে খেলেছিলেন ২৩ রানের ক্যামিও।

দুদলের রান সমান হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ টাই হয় এবং সুপার ওভারে গড়ায়। পরে সুপার ওভারে জয় পায় চিটাগং। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা হন চিটাগংয়ের অলরাউন্ডার ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথমে ব্যাট করে ছয় উইকেটে ১৫১ রান তুলেছিল খুলনা। পরে আট উইকেটে ১৫১ রান তুলতে সমর্থ হয়েছে চিটাগং।

রান তাড়া করতে নেমে শাহজাদ (১০), ডেলপোর্ট (১৭) সুবিধা করতে না পারলেও ইয়াসির আলীর ৪১, মুশফিকের ৩৪ রানে জয়ের পথে এগিয়ে যায় চিটাগং। কিন্তু সিকান্দার রাজা (০) মোসাদ্দেক (১২) ব্যর্থ হলে এবং মুশফিক ১৮তম ওভারে আউট হওয়ায় চাপে পড়ে দলটি। শেষ বেলায় ফ্রাইলিঙ্কের ঝড়ে বদলে গিয়েছিল দৃশ্যপট। কিন্তু তখন শেষটা চিটাগংয়ের পক্ষে লেখাতে পারেননি তিনি। পরে সুপার ওভারে তার বোলিংয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় চট্টলার দলটি। খুলনার ব্রেথওয়েট, শরীফুল দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে ৪১ রানে দুই ওপেনার স্টারলিং (১৮), জুনায়েদ সিদ্দিকীর (২০) বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের জুটিতে গড়েন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও ডেউইড মালান। তাদের জুটি ভাঙার পর কেউ আর সুবিধা করতে পারেননি। মালান ৪৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, ব্রেথওয়েট ১২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৬, আরিফুল অপরাজিত ৯, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন অপরাজিত ৪ রান করেন। চিটাগংয়ের সানজামুল দুটি, ফ্রাইলিঙ্ক, নাঈম হাসান, খালেদ আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহী একটি করে উইকেট পান।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

খুলনা টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৫১/৬

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৫১/৮

ফল: সুপার ওভারে চিটাগং ভাইকিংস জয়ী

সুপার ওভার

চিটাগং ভাইকিংস: (১১ রান)

খুলনার জুনায়েদ খানের করা প্রথম বলেই চার মারে ডেলপোর্ট। দ্বিতীয় বলে একটি সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে ফ্রাইলিঙ্ক চার মারেন। চতুর্থ বলে বোল্ড হন তিনি। পঞ্চম বলে মুশফিকুর রহিম নিতে পেরেছেন আরেকটি সিঙ্গেল। ষষ্ঠ ও শেষ বলেও ডেলপোর্ট সিঙ্গেলের বেশি নিতে পারেননি।

খুলনা টাইটান্স: (টার্গেট ১২ রান)

ফ্রাইলিঙ্কের করা প্রথম বলে আসে এক রান। দ্বিতীয় বলে চার মারেন মালান। তৃতীয় বলে আসে ২ রান। চতুর্থ বলটি ব্যাটে লাগাতে পারেননি। তারপরও প্রান্ত বদল করতে গিয়ে ব্রেথওয়েট রান আউট হন। পঞ্চম বলে পল স্টারলিং ২ রান নেন। শেষ বলে দরকার ছিল ৩ রান। বলে-ব্যাটে করতে না পারা স্টারলিং বাই রানের জন্য ছুটেছিলেন। একবার প্রান্ত বদল করলেও দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটে রান আউট হয়ে যান স্টারলিং। দুই উইকেট হারিয়ে ১০ রান তুলতে সমর্থ হয় খুলনা।