রাখাইনে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৩

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বছরের পর বছর নোংরা ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বিচারে আটক রাখা রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংস্থাটির প্রকাশ করা ১৬৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে মধ্য রাখাইন রাজ্যে ২৪টি ক্যাম্পের অমানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০১২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিমদের ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ আটক করে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও আশ্রয়ের অধিকারের পাশাপাশি তাদের মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ক্যাম্পে আটক থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পানি বাহিত রোগ, অপুষ্টি এবং শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার অনেক বেশি।            এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক গবেষক শায়না বাউকনার বলেন, মিয়ানমার সরকার আট বছর ধরে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে আটকে রেখেছে। মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে, তারা সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে না। তারা যদি রোহিঙ্গাদের পূর্ণ আইনি সুরক্ষাসহ ফিরে যাওয়ার সুযোগ না করে, তবে তাদের এ দাবি ফাঁকা বুলির মতো শোনাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘসময় ধরে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে আর সেই পরিকল্পনার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ২০১২ সালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে ২০১২ সালের ঐ পদক্ষেপ।

২০১৮ সালের পর থেকে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা, কামান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীর সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্টটি। প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে যে, মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যের সরকারের কাছে ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে সেসব আহ্বান উপেক্ষা করে এসেছে। রোহিঙ্গারা বলছে, ক্যাম্পের জীবন গৃহবন্দি থাকার মতো। স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। নভেম্বরে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ রোহিঙ্গার ভোট দেওয়ার অধিকারই নেই। খবর:বিবিসি।