বিড়ম্বনার শেষ নেই

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অটোমেশন এবং সার্ভারের সমস্যা নিয়ে আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের বিড়ম্বনা ও অভিযোগের শেষ নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত বিশ্বমানের সফটওয়্যার আসাইকুডা ওয়ার্লড ব্যবহার করে সারা দেশে সমুদ্র ও স্থল বন্দরসমূহকে অটোমেশনের আওতায় আনা সত্ত্বেও বন্দর ব্যবহারকারীরা প্রায়শই নানারকম ঝামেলার শিকার হচ্ছেন বলে জানান। কাস্টম হাউজ সূত্রগুলো অবশ্য এসব অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এনবিআরের পক্ষ থেকে অটোমেশন প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো দূর করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

দেশের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯৩ শতাংশ সম্পাদনকারী চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে গতিশীল ও সমন্বিত অটোমেশন পদ্ধতি জরুরি ভিত্তিতে চালু করা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন ব্যবসায়ী সূত্রগুলো। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে অটোমেশন চালু হওয়াতে আমদানি-রপ্তানি অ্যাসেসমেন্ট, হিসাবনিকাশসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে, ভুল কমেছে এবং সময় বেঁচেছে। কিন্তু তারপরও ব্যাংক, বিমা, শিপিং, ফরোয়ার্ডিংসহ অনেকগুলো সংশ্লিষ্ট সেক্টরকে পূর্ণাঙ্গভাবে নেটভিত্তিক এই অটোমেশনের আওতায় আনা হয়নি। ফলে অটোমেশনের কারণে পেপারলেস ট্রেড চালু এবং বন্দর ও কাস্টম হাউজের মধ্যে ইন্ট্রিগেটেড সার্ভিস চালুর যে কথা আগে বহুবার বলা হয়েছে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এখনো অনেক কাজে ক্লিয়ারেন্সের জন্য কাগজ হাতে নিয়ে ব্যাংক এবং কাস্টম হাউজে যেতে হয়। এমনকি সিএন্ডএফ এজন্টদের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) আনতে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও শিপিং লাইন অফিসে যেতে হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এ কে এম আক্তার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের দ্রুত প্রবৃদ্ধির মুখে এখানে নিয়োজিত স্টেকহোল্ডাররা অটোমেশনের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। ধীর গতির সার্ভার, এবং বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত জটিলতায় সার্ভার অচল থাকার কারণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্মসম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে—সার্ভারের দুর্বলতা। ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়া। দিনের আট কর্মঘণ্টার মধ্যে দেখা যায় পিক আওয়ারের দুই/তিন ঘণ্টা সময় সার্ভার বৈকল্যের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্য এনবিআর ওয়াকিবহাল আছে। তবে কথা হচ্ছে দেশব্যাপী সমুদ্র ও স্থলবন্দর সমূহের আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব আদায়সহ বন্দর ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সুবিধা দেওয়ার জন্য বিশ্বমানের সফটওয়্যার ‘আসাইকুডা ওয়ার্লড’ এখানে অটোমেশনে যুক্ত করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারের অসংখ্য সুবিধা থাকলেও অনেকগুলো সুবিধা আমরা বিভিন্ন কারণে নিতে পারছি না। এর কারণ হচ্ছে, কাস্টমের অটোমেশনে              আসাইকুডা ওয়ার্লডের অনেকগুলো মডিউল এখনো ইনস্টল বা বাস্তবায়িত হয়নি। এগুলো ইনস্টল করার দায়িত্ব এনবিআরের। অবশ্য সম্প্রতি এনবিআর ই-পেমেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনায় প্রথম সুযোগ পাবে বেনাপোল স্থলবন্দর।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, এখানে অটোমেশন বা সার্ভারে মাঝেমধ্যে যে সমস্যা হচ্ছে, তা আমরা টের পাই। এর দুটো কারণ এখানে রয়েছে, একটি হচ্ছে আমাদের সার্ভার পুরোনো, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ব্যান্ডউইডথ সমস্যা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব এনবিআরে পাঠানো হয়েছে।