জন্মের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও শরীরে অস্ত্রোপচার করা যায়নি কোমরে জোড়া লাগা দুই বোন লাবিবা ও লামিসার। এ কারণে দুই বোনকে সারাক্ষণই একসঙ্গে থাকতে হচ্ছে। অর্থাভাবে সন্তানদের চিকিত্সা করাতে না পেরে নিজের অসহায়ত্বের কথাই তুলে ধরলেন লাবিবা-লামিসার দরিদ্র পিতা লাল মিয়া। নীলফামারীর জলঢাকার বাসিন্দা লাল মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
তিনি জানালেন, গত বছরের এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করেছে তার যমজ মেয়ে। কিন্তু তাদের শরীরে জোড়া লাগা থাকায় অপারেশন করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। চিকিত্সার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে রাজধানীতে গিয়ে জেনে এসেছেন এর জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তিনি বলেন, চিকিত্সকরা বলেছেন, সঠিকভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারলে তাদের দুই জনকে আলাদা করা যাবে। তার জন্য তো অনেক টাকার প্রয়োজন, যা আমাদের কাছে নেই। লাবিবা-লামিসার ভবিষ্যত্ নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছি। যমজ মেয়েদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
শিশুদের মা মনুফা বেগম বলেন, চার হাত, পা, মাথা আলাদা থাকলেও, সম্পর্ক রয়ে গেছে দুই জনের দেহে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নানান চাহিদা। এক জনের সঙ্গে অন্য জনের নেই কোনো কাজের মিল। এক জন দাঁড়ালে অন্যজন বসতে চায়। এক জন ঘুমালে অন্যজনের কান্নায় ঘুম ভেঙে যায়। জন্মের পরেই তাদের মলদ্বার না থাকায় পেটের মধ্যে পৃথকভাবে মলদ্বার গড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের কোমরের জোড়ার চিকিত্সা করা দরকার।
জলঢাকা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এইচ এম রেজওয়ানুল কবীর বলেন, জোড়া লাগা শিশু দুটির ব্যাপারে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের চিকিত্সার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, শিশু দুটির চিকিত্সার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছি এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে রয়েছে। তাদের চিকিত্সায় সহযোগিতায় সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
