আটকে গেল সাড়ে ৫০০ প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪০

বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত ৫৫০টি উত্পানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা আটকে (বিন লক) দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন বন্ড কমিশনারেট অফিস। প্রতি বছর নিয়ম মাফিক অডিট করার কথা থাকলেও তিন বছর ধরে অডিট করে না—এমন প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি তথা উত্পাদনসহ সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত তিন মাস ধরে যাচাই-বাছাই করে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বিন লক করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই তৈরি পোশাক শিল্প। এর বাইরে এক্সেসরিজসহ অন্য খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন ইত্তেফাককে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই অডিট করার নিয়ম। তবে জেনারেল বন্ডের আওতায় বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি করা যায়। গত তিন মাসে পরীক্ষা করে দেখা যায়, আলোচ্য প্রতিষ্ঠানগুলো তিন বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নিরীক্ষা করেনি। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান চার-পাঁচ বছরেও অডিট সম্পন্ন করেনি। এজন্য তাদের বিন লক করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিন আনলক (ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ) করে দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত হলো, তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অডিট সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, অডিট করার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং রপ্তানিকৃত অর্থ দেশে এসেছে। বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার স্বার্থেই এটি দরকার।

জানা গেছে, লক হওয়া বিনের মধ্যে প্রায় দেড়শ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আগে থেকেই বন্ধ। বাদবাকি প্রতিষ্ঠানগুলো সচল ছিল।

যোগাযোগ করা হলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, যারা কোনো ধরনের কার্যক্রমে নেই, সে সব প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবেই বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, নিয়মিত আমদানি কিংবা অডিট না হলেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং রপ্তানি রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের স্ব স্ব সংগঠনের সঙ্গে ক্রস চেক করে, তালিকা নিয়ে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে আরো ফলপ্রসূ হতো। তবে যে সব বন্ধ প্রতিষ্ঠান ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কাপড় এনে বাইরে বিক্রি করে দেয়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, যারা নিয়মিত অবৈধ কাজ করে তারা ‘ম্যানেজ’ করে তা চালিয়ে নিচ্ছে। সামান্য ভুলে হয়রানির শিকার হতে হয় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৭৮টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ৩ হাজার ১০০টি প্রতিষ্ঠান।