কুড়িগ্রামে পাঁচ দফা বন্যায় আমনের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে দফায় দফায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে পাঁচ দফা বন্যায় বারবার ফসলের ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য সংকুলান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষক। কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি নির্ভরশীল পরিবারগুলো ধারদেনা করে ৪র্থ দফা বন্যার পর আমন আবাদ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ৫ম দফা বন্যায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন নিজেদের খাদ্যের জোগান দেওয়াসহ গবাদিপশুর খাওয়া কীভাবে জুটবে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মনে করছে অবশিষ্ট এলাকায় এবার বাম্পার ফলন হবে। ফলে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর প্রথম দফা বন্যায় তেমন ক্ষতি না হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় জেলায় ১৭ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর ১১ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিরূপণ করে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে আমন বীজতলা ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর, আউশ ৫ হাজার ২১৭ হেক্টর, সবজি ৯৫৩ হেক্টর, পাট ৯ হাজার ২৩৫ হেক্টর, তিল ৩০৫ হেক্টর, মরিচ ২০৫ হেক্টর ও চিনা ১৪০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় এ দুই মিলে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৮ জন কৃষকের মোট ১৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তৃতীয় দফা বন্যা শেষে জেলার ২৭ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে সবজি বীজ, ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা ও শতাধিক ভাসমান বীজতলা এবং ১১২টি ট্রে বীজতলা প্রস্তুত করে কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে আমন চারা বিতরণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সেপ্টেম্বরে দুই দফা বন্যায় ১৯ হাজার ২৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। যার আমনের আবাদ ১৮ হাজার ৮২০ হেক্টর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ২০৫ হেক্টর, উলিপুরে ৬৬০ হেক্টর, চিলমারীতে ১ হাজার ৫ হেক্টর, রৌমারীতে ৯৫০ হেক্টর, চর রাজীবপুরে ৭৫০ হেক্টর, ভূরুঙ্গামারীতে ১ হাজার ৫২৫ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ৬ হাজার ৫৫ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর এবং রাজারহাট উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর আমন আবাদ নিমজ্জিত হয়। এখনো অনেক আবাদি ফসল পানির নিচে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। এবারে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব, চরহলোখানা, কাগজিপাড়া ও ছাটকালুয়া গ্রামের কৃষকরা জানান, এবার বন্যা আর নদীভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে পচে ও কাদায় মিশে নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারিভাবে সহায়তা না পেলে আগামী মৌসুমে কোনো চাষাবাদই তারা করতে পারবেন না। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শামসুদ্দিন মিঞা জানান, এখন পর্যন্ত শেষ দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনো প্রকার প্রণোদনা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতে মাঠ পর্যায় কাজ চলছে। তালিকা প্রণয়ন শেষে তাদের সহযোগিতা করা হবে।