প্রাণিজগত্

আল কুসুম

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫০

ছবি ও লেখা :মুশফিক আবীর উপন্যাস

 

পৃথিবীতে প্রজাপতির আবির্ভাব হয়েছিল ৪০-৫০ মিলিয়ন বছর আগে। ধারণা করা হয়, ৪৫০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে বাংলাদেশে। প্রতিটি প্রজাপতির রয়েছে আলাদা নাম ও পরিচিতি। কিছু প্রজাতি সচরাচর দেখা যায়, আবার কিছু কিছু বিপন্ন। তেমনি একটি হলো ‘আল কুসুম’। এই প্রজাপতির ডানার প্রসারতার দৈর্ঘ্য ৫০ থেকে ৫৫ মিলিমিটার। Ixiasগণের অন্তর্ভুক্ত আরো একটি প্রজাপতি থাকলেও তার অস্তিত্ব বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি।

এই প্রজাপতির পিঠের ওপরের অংশ হলুদ রঙের। ডানার ফোর-উইং অংশে কালো রঙের মধ্যে কমলা চওড়া রঙের পটি দেখা যায়। ডানার হাইন্ড-উইং পুরোটা জুড়েই হলুদ রং থাকলেও চারপাশ ঘিরে কালো সরু মার্জিনের মতো দেখা যায়। মাঝারি আকারের প্রজাপতি। আল কুসুম প্রজাপতির নারী এবং পুরুষ উভয়ের ডানার নিচের অংশ একরকম হলেও, এদের ডানার ওপরের অংশের রং আলাদা। পুরুষ প্রজাপতি নারী প্রজাপতির তুলনায় উজ্জ্বল। পুরুষদের ডানার ওপরের অংশ উজ্জ্বল কমলা এবং বাসন্তী হলুদ রঙের চারপাশে কালো রং দেখা যায় এবং নারীদের ডানার ওপরের অংশ অনুজ্জ্বল হলুদ এবং চারপাশ ঘিরে থাকে কালো মার্জিন। এই প্রজাপতি বাংলাদেশের খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়—চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, নওগাঁ, রাজশাহী এবং জয়পুরহাট জেলায় দেখা মিলেছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলংকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। এই প্রজাপতি সকালে সবচেয়ে বেশি অ্যাকটিভ থাকে এবং মাটির খুব কাছাকাছি ওড়ে—এরা অন্য সব প্রজাপতির মতোই ফুল থেকে তরল আহরণ করে। পুরুষরা মাঝেমধ্যে ভেজা মাটি ও পশুর বিষ্ঠাতে প্যাডলিং করে খনিজ পদার্থ খোঁজে। এই খনিজ পদার্থ পুরুষের উর্বরতা বাড়ায়। জীববৈচিত্র্য গবেষণা ও সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইইউসিএন’ ‘লাললতিকা ২০১৫’-তে এই প্রজাপতিকে বাংলাদেশে বিপন্ন (EN) বলে ঘোষণা করেছে।