শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাত উদ্ভাবন
শেকৃবি সংবাদদাতা
শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর সুপারফুডের নাম কিনোয়া। যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই উপকারী একটি দানাদার ফসল। কিনোয়া দানা পুষ্টি সমৃদ্ধতার কারণে ইতিমধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি কিনোয়ার নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস। জাতীয় বীজ বোর্ড অনিয়ন্ত্রিত ফসলের জাত নিবন্ধনের আওতায় উদ্ভাবিত এ জাতটি নিবন্ধন দিয়েছে। সাউ কিনোয়া-১ নামে নতুন এ জাতটি নিবন্ধিত হয়।
খরা ও লবণাক্ত অঞ্চলসহ সারা দেশে রবি মৌসুমে এ ফসলটি চাষ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষক অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস। কিনোয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Chenopodium quinoa| dmjwU Amaranthaceae পরিবারভুক্ত একটি দানাশস্য। ফসলটির পুষ্টি সমৃদ্ধতার কারণে খ্রিষ্টপূর্ব ৫ হাজার বছর পূর্ব থেকেই ল্যাটিন আমেরিকাভুক্ত দেশে দানা, ফ্লেক্স, পাস্তা, রুটি, বিস্কুট, বেভারেজ হিসেবে কিনোয়া ব্যবহূত হয়ে আসছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ভারতসহ ৯৫টিরও অধিক দেশে কিনোয়া চাষাবাদ হচ্ছে।
২০১৭ সাল থেকে কিনোয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেন অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস। কিনোয়ার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কিনোয়া গ্লুটেন ফ্রি এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিক ডায়েটে কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে। কিনোয়ায় খুবই কম পরিমাণে শর্করা রয়েছে। এতে রয়েছে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ প্রোটিন যার মধ্যে সব প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান। ভিটামিন এ ও ই, ক্যালশিয়াম, আয়রন, জিংক, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি খনিজ পদার্থসহ রয়েছে প্রচুর ফাইবার বা আঁশজাতীয় পদার্থ ফলে সহজে হজম হবে। খিচুড়ি, পোলাও, রুটি, সালাদসহ নানা উপায়ে কিনোয়া খাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করা হবে।
