যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যেকার দ্বিতীয় মুখোমুখি বিতর্ক বাতিল করা হয়েছে। আয়োজক কমিশন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে ভার্চুয়ালি বিতর্কটি আয়োজনের পরিকল্পনা হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় ১৫ অক্টোবরের নির্ধারিত দ্বিতীয় বিতর্ক বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, প্রথম বিতর্কের দুই দিন পরই করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ট্রাম্পের। তিন দিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি হোয়াইট হাউজে ফেরেন। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন কি না তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। পরীক্ষায় ট্রাম্পের নেগেটিভ এসেছে কি না সে বিষয়েও জানাতে রাজি নয় হোয়াইট হাউজ। যে কারণে বিতর্কটি ভার্চুয়ালি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জো বাইডেনকে সুবিধা দিতে ভার্চুয়াল বিতর্কের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেছেন, এমন বিতর্ক করে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না। আগামী ২২ অক্টোবর নির্ধারিত শেষ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারণায় ফিরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে হোয়াইট হাউজের একটি বারান্দা থেকে নিচের উন্মুক্ত স্থানে সমবেত প্রায় ২ হাজার সমর্থকের সামনে তিনি ‘আইনশৃঙ্খলা’ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে খবরে বলা হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট করোনাকে পরাজিত করেছেন এবং নির্বাচনি লড়াইয়ে ফিরেছেন সেটিই দেখানো হলো এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। ট্রাম্পের চিকিত্সকরা এখনো তাকে করোনামুক্ত বলে ঘোষণা দেয়নি, কিন্তু শনিবার থেকে জনসম্মুখে উপস্থিত হতে পারবেন বলে ছাড়পত্র দিয়েছে। হোয়াইট হাউজের ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া লোকজন সবাই মাস্ক পরে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য যে রাজ্যে তাকে জয় পেতেই হবে সেই ফ্লোরিডার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সোমবার এক নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের।
এদিকে সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রচারণার বাইরে থাকায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন প্রতিপক্ষ জো বাইডেন। জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে ট্রাম্পের চেয়ে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাইডেন। যদিও সুয়ং স্টেটগুলোতে, যেখানে জয়-পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করছে সেখানে প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান কম।
ট্রাম্পের চিকিত্সায় ব্যয় ১০ লাখ ডলার!
ট্রাম্পের করোনা চিকিত্সায় কত খরচ হয়েছে সেটা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের যে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে তাতে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার (সাড়ে ৮ কোটি টাকা) খরচ হয়েছে। হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে যাওয়া-আসা, রোগ নিরূপণে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিভিন্ন ওষুধসহ তার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জামের দাম ধরে এই খরচের হিসাব করা হয়েছে।
