কক্সবাজার জেলায় পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের পর এখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশেও রদবদল করা হচ্ছে। সদর দপ্তর থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে বদলির আদেশ আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের নতুন করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। ইয়াবা চোরাচালানে বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। সীমান্তে ও অভ্যন্তরে চেকপোস্টগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কক্সবাজার জেলায় গত সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এখন চট্টগ্রাম মহানগরীতেও পুলিশ বিভাগে রদবদল করা হচ্ছে। সদর দপ্তর থেকে প্রতি সপ্তাহে পুলিশ সদস্যদের বদলির আদেশ আসছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, সবায় খারাপ এই জন্য বদলি করা হয়নি। কিছু অসাধু পুলিশের জন্য সবার বদনাম হয়। ফলে যাতে কোনো প্রশ্ন না থাকে সেই জন্য কক্সবাজার জেলায় সব পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা আপডেট করা হচ্ছে। অনেকেই মারা গেছে আবার নতুন করে কেউ ইয়াবা কারবারে যুক্ত হয়েছে। ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইয়াবা চোরাচালানে অনেকেই অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন। এদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।’
প্রতিদিনই ইয়াবার বড় বড় চোরাচালান ধরা পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পথ ঘুরে ইয়াবার অর্থ মিয়ানমারে পৌঁছায়। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত স্থানীয়রা বিজিবির পেট্রোল টহলের গতিবিধি চোরাচালানিদের তাত্ক্ষণিক জানিয়ে দেওয়ায় অনেক সময় নিশ্চিত চোরাচালানও আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কাজে তারা মিয়ানমারের মোবাইল সিম ব্যবহার করছে। এর পেছনে রাঘব বোয়ালরা জড়িত রয়েছে। ইয়াবা চোরাচালান মূলোত্পাটনে অর্থ লগ্নিকারীদের সনাক্তে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন কয়েক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সড়ক, সাগর দিয়ে নৌপথে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ইয়াবা চালান বন্ধ হচ্ছে না। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। এতে ইয়াবা বহনকারীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবা চোরাচালান প্রতিরোধে বহনকারীর পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন ও লেনদেনের নতুন নতুন কৌশল উদ্ঘাটনে র্যাব কাজ করছে। ইয়াবা নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। গত মাসেও প্রায় ৭ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়া ও আনোয়ারার সমুদ্র উপকূল গহিরা এলাকায় সম্প্রতি ইয়াবার কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে। আটককৃতরা স্বীকার করেছে সাগরপথে নৌকায় করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আনোয়ারার গহিরায় আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ইয়াবা পাচার ও সেবনে নতুন করে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংদের মধ্যে ইয়াবা সেবনের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর মধ্যে কোতোয়ালি, বাকলিয়া, বন্দর, পতেঙ্গা ও হালিশহর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ইয়াবা পাচার কমছে বা বাড়ছে এটা মূল্যায়ন করা যায় না। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। তবে প্রতি তিন মাস পর পর ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের তালিকা আপডেট করে থাকি। এখন নতুন করে তালিক আপডেট করা হচ্ছে।’
