নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী—বাজার ক্রমেই হয়ে উঠছে নিয়ন্ত্রণহীন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, তেল ও পেঁয়াজের প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতিকেজি ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের ডজনপ্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। আমদানি বাড়লেও, কমছে না পেঁয়াজের দামও। বাজারভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচও বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের তথ্যমতে, করোনার কারণে দেশে এক কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। এই যখন বাস্তবতা, তখন দফায় দফায় নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য মানুষকে মহাদুর্যোগে ফেলছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উলম্ফনে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
নিত্যপণ্যের দাম এমন বেড়ে চলার পিছনে যৌক্তিক কারণ নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হচ্ছে—পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। অধিকাংশ সময় নানা অজুহাত বা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। করোনা ভাইরাস ও বন্যাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট অবৈধ মুনাফা লাভের আশায় পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। এ অবস্থায়, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য জনসাধারণের নাগালে আনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবিকে বাজার মনিটরিংয়ের জোর আবেদন জানাই। পাশাপাশি পণ্যের মজুত বাড়িয়ে মজুতের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করাও দরকার। তবে সবকিছুর আগে অবৈধ সিন্ডিকেন্ট ভেঙে মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই। আমাদের প্রত্যাশা—সর্বাবস্থা বিবেচনা করে পণ্যমূল্যে সহনীয় রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মোহম্মদ শাহিন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
