শহরবাসীর ভোগান্তি
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
জলকাদার অজুহাতে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরিয়ে শত শত বাস-ট্রাক শহরের প্রধান সড়ক জুড়ে রাখায় শহরবাসীর নিদারুণ ভোগান্তি হচ্ছে। যানজট ছাড়াও প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বাণীতোষ চক্রবর্তী সড়ক জবরদখল করে মাসের পর মাস পরিবহন ব্যবসা চালানোর নিন্দা জানান। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী কে এম গিয়াসউদ্দীন জানান, গত জুলাই মাসে বাসস্ট্যান্ডে বন্যার পানি উঠার অজুহাতে বাস মালিকরা শহরের প্রধান সড়কের ওপর বাস রাখা শুরু করেন। বন্যা কবে চলে গেছে। কিন্তু মালিকরা আর বাসস্ট্যান্ডে ফিরে যায়নি। নন্দনপুর থেকে সমেশপুর পর্যন্ত সড়কের বাম পাশের লেন জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বাসট্রাক রাখছেন। আর ডানপাশের লেন ঘুরিয়ে রং সাইড দিয়ে বাস চলাচল করাচ্ছেন। উভয় লেনেই বাস চলায় ছোটখাটো যানবাহন এমনকি পথচারীরা জীবন হাতে নিয়ে যাতায়াত করেন। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা জানান, বাসস্ট্যান্ড খালি রেখে প্রধান সড়ক দখল এবং নাগরিকদের জিম্মি করে পরিবহন ব্যবসা চলছে। এ মাসে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সড়ক থেকে গাড়ি বাসস্ট্যান্ডে ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তার ধারণা। ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৭ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় সড়ক থেকে বাস সরিয়ে দিতে প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব জানান, মানুষের চরম ভোগান্তি হলেও পরিবহন মালিকরা কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার শহরের ব্যস্ততম সড়ক দখল করে পরিবহন ব্যবসার নিন্দা জানান। বাস মালিক সমিতির সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানে সরকারি বাস টার্মিনাল নেই। বন্যার কারণে সাময়িকভাবে সড়ক ব্যবহার হচ্ছে। বাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ নেতা রহমাতুল কিবরিয়া জানান, বন্যায় বাসস্ট্যান্ডটি ব্যবহার অনুপযোগী। সরকার নতুন বাসটার্মিনাল না করে দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলবে। পৌর মেয়র রকিবুল হক জানান, নতুন বাসটার্মিনাল নির্মাণ জটিলতায় স্থানীয় সরকারের ১ কোটি টাকা ইতিপূর্বে ফেরত গেছে। পেট্রোল পাম্পের নিকট বাসস্ট্যান্ড করার জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায় সরকারি খাতের চাল-গম খরচ করলেও সেটি বেদখল হয়ে গেছে। এখন রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে নাগরিকদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, যারা পরিবহন ব্যবসা করবেন তাদেরই নিজ খরচে বাসস্ট্যান্ড করতে হবে। উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে আগামী বুধবার উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। সেখানে বিষয়টির ফয়সালা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির জানান, একটি বাইপাস সড়ক এবং নতুন বাসস্ট্যান্ড করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সেটি সময় সাপেক্ষ।
