জেলা ফুটবলের দায়িত্ব নিলেন সালাহউদ্দিন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৩

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

জেলা ফুটবল এখন থেকে বাফুফের সভাপতি নিজেই দেখভাল করবেন। জেলা ফুটবল সংগঠকেরা সরাসরি বাফুফে সভাপতির সঙ্গে ফুটবল নিয়ে কথা বলবেন। সমস্যার কথাও জানাতে পারবেন। নবনির্বাচিত বাফুফের নির্বাহি কমিটির প্রথম সভা শেষে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘আমি নিজেই জেলা ফুটবল দেখব। আমি মনিটরিং করব। অর্থসহযোগিতা করব। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে হবে।’ এছাড়া কিছু আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ, ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ, অনূর্ধ্ব-১২ শেখ রাসেল ফুটবল, অনূর্ধ্ব-২০ শেখ কামাল ফুটবল হবে।’ 

সালাহউদ্দিনের বিরোধী প্যানেল থেকে একাধিক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের এবং নিজেদের সবাইকে নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সবাই এক ফ্যামেলি, ফুটবল ফ্যামেলি। আমি কথা বলে বুঝেছি, ওনারা ভদ্রলোক, বাইরে গিয়ে সমালোচনা করবেন না। আমার দরজা খোলা আছে।’

গতকাল প্রথম সভায় বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান পদগুলো ঘোষণা করেছেন বাফুফের সভাপতি। বছর জুড়ে সমালোচনা ছিল ন্যাশনাল টিমস কমিটি নিয়ে। জাতীয় দলের কারণে সমালোচনায় তিরবিদ্ধ ছিলেন বাফুফের সভাপতি। নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যেত কিনা? বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদকে দায়িত্বে বহাল রেখেই সালাহউদ্দিন বলেন, ‘পুরোনোরা অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছে। নতুনরা এলে বুঝতে সহজ হবে না। তাছাড়া আবাহনী ফুটবল দলটাও করছেন তিনি। তাই কিছু কমিটি বদল করা হয়নি।’ বোঝাই যায়, কমিটি নিয়ে বাফুফের সভাপতির সঙ্গে কাড়াকাড়ি হয়েছে। তাই হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোতে নতুন মুখ আনতে চাননি সভাপতি। গুঞ্জন আছে, পছন্দের কমিটি না পেয়ে অনেকেই অসন্তুষ্ট।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান রয়েছেন আব্দুস সালাম মুর্শেদী। নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ, মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের ছিলেন হারুনুর রশিদ, তাকে দেওয়া হয়েছে কমিটিশন কমিটি। আর হারুনের বদলে নতুন চেয়ারম্যান বাফুফের সহসভাপতি ইমরুল হাসান। এই কর্মকর্তা বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি, দল পরিচালনায় পরীক্ষিত ও পেশাদার। তার দলের ডজনের বেশি ফুটবলার জাতীয় দলে নিয়মিত। কোনো সমালোচনা বা অভিযোগ নেই। তার পরও জাতীয় দল তাকে দেওয়া হয়নি। আরেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিককে ফুটবল ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী। তিনি বাফুফের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ ভোট পেয়ে এক নম্বর সদস্য হয়েছেন। 

সালাহউদ্দিন বলেছেন, তিনি যত দিন সভাপতি থাকবেন, বিদেশি খেলোয়াড় কোটা চারেই থাকবে। চার জনের মধ্যে এক জন এশিয়ান কোটায় খেলবেন। যখন-তখন লিগের ফিকশ্চার পরিবর্তনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান ‘অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে, অনেক ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে, আর না’—বললেন বাফুফের সভাপতি। এছাড়া স্কুল ফুটবল বিজন বড়ুয়া, ফুটসাল ও বিচ ফুটবল দেওয়া হয়েছে সত্যজিত দাস রুপুকে।