‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অজ্ঞাত-লুপ্ত ঐতিহ্য-উপাদানের সন্ধান, জন্মভূমির মহিমা-প্রচার ও স্বদেশ-আবিষ্কারের চেতনা থেকেই সাহিত্যবিশারদ ফোকলোরচর্চার ব্রতী হন। বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বিতর্কের আদিপর্বে বাংলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

গতকাল বাংলা একাডেমি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘সাহিত্যবিশারদ : পুথিপ্রেমিকের লোকসংস্কৃতি সন্ধান’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, সাহিত্যবিশারদের আগ্রহ ও সন্ধিত্সা কেবল পুথির জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার বিচিত্রমুখী অনুরাগ ও কৌতূহল প্রসারিত হয়েছে ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, ধর্মতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য-সমালোচনা, রাজনীতি, এমনকি আধুনিক সাহিত্যের প্রতিও। ঐতিহ্য-অন্বেষার সূত্রেই তার লোকসংস্কৃতিচর্চার সূচনা। একদিকে তিনি ছিলেন ফোকলোর-উপকরণের নিষ্ঠ সংগ্রাহক, অপরপক্ষে এ বিষয়ের প্রাজ্ঞ আলোচক।

শামসুজ্জামান খান বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন এক অসাধারণ বঙ্গীয় মনীষা। পাশাপাশি বাঙালির আত্মসত্তা বিকাশের পূর্ণ পরিচয় ধারণ করেছে সাহিত্যবিশারদের পুথিসাধনা, লোকসংস্কৃতিচর্চা এবং তার সামগ্রিক জীবনসংগ্রাম।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, সাহিত্যবিশারদের রচনাবলি, অভিভাষণসমগ্র, জীবনী ও নিবেদিত প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে একাডেমি বাংলা সাহিত্যে তার অবদানকে স্মরণ করেছে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই।