বরিশালের প্রবীন সাংবাদিক শামীম আহম্মেদকে কারাগারের বাইরে সড়ক থেকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে কারারক্ষীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় কারারক্ষী উজ্জল, আবু বক্কর, সাঈদ, আবুল খায়ের ও খোকন নামের পাঁচজন কারারক্ষীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মারধরের শিকার সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ জানান, কারাগার থেকে ভ্যান গাড়িযোগে সরকারি গম পাচারকালে কোতয়ালি পুলিশ আটকে দেয়। ওই সময় তিনি সড়কে দাড়িয়ে সেই চিত্র ধারন করছিলেন। এসময় কারা কম্পাউন্ড থেকে ৮/ ১০ জন কারারক্ষী এসে তার উপর হামলা চালায়। মারধরের শিকার দৈনিক যুগান্তর বরিশাল ব্যুরো’র ফটো সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ বলেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি ভ্যানে করে ১১ বস্তা গম বের করার সময় পুলিশ ওই গম আটক করে। এসময় কারারক্ষী ও পুলিশের মধ্যে গমের বস্তা নিয়ে টানাটানি হয়। ওই টানা হেচড়ার ছবি তুলতে গেলে কারারক্ষীরা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে বসেই আমাকে মারধর শুরু করে।
এই ঘটনায় বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিআইজি প্রিজন তওহিদুল ইসলাম ও সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিকের কাছে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তাত্ক্ষণিক হামলা ও মারধরের ঘটনায় জড়িত কারারক্ষী উজ্জল মিয়া, আবুল খায়ের, আবু বক্কর সিদ্দিক খোকন, কাওছার ও সাঈদ নামে পাঁচ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ডিআইজি প্রিজন তওহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মাইনুল ইসলাম জানান, কারাগার থেকে গম পাচারের সময় প্রথমে একটি ভ্যান সড়কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আরেকটি ভ্যান বের হলে তখন সাংবাদিক শামীম আহম্মেদ সেই চিত্র ধারন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কারারক্ষীরা তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় ভ্যান দুটির চালককে আটক করা হয়েছে। কিন্তু আটক গম বৈধ না অবৈধ সেই বিষয়টি তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।
০
