অসুস্থ স্বাস্থ্য খাতের চিকিত্সা প্রয়োজন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৪

নিগার সুলতানা সুপ্তি

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাংলাদেশ যখন করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখনই স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর একের পর এক মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। ভুয়া করোনা ভাইরাস নেগেটিভ রিপোর্ট, লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালে করোনা ভাইরাস চিকিত্সার অনুমতি দেওয়া এবং সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা ‘আয়’ করা, যাদের কোনো অনুমতিই নেই, তাদের দিয়ে করোনা টেস্টের নামে ‘বুথ’ তৈরি করে নমুনা সংগ্রহ করা, সবকিছু স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম, অদক্ষতা আর দুর্নীতির চিত্রকে সামনে আনে।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে কথা উঠলেই কিছু নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু সব নামই ডান ও বামের। আসল নামটি উচ্চারিত হয় না। যেন ভাশুরের নাম মুখে নিতে মানা। শুরুতেই যার নাম আসে। সে হলো স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়া ডন। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায়  মাস্ক-পিপিইকাণ্ড। একই সুতোয় গাঁথা সাহেদ-সাবরিনা-আরিফকাণ্ডও। সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতের আরেক নাম উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোটিপতি গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদল এখন বহুল আলোচিত চরিত্র। তবে স্বাস্থ্য খাতে কথিত ‘গডফাদাররা’ এতই শক্তিশালী যে, এদের অনেকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের এই দুর্বলতার কারণ কী? গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করে। তার মধ্যে বেশি দুর্নীতি হয় কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিত্সাসেবা, চিকিত্সাসেবায় ব্যবহূত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহ খাত ইত্যাদি। অসুস্থ স্বাস্থ্য খাতের  চিকিত্সার জন্য দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে। জোর দিতে হবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও গবেষণায়। আর সেবাটা হতে হবে অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিমূলক। সব হাসপাতালে স্থানীয়দের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নিয়ম থাকলেও তা হয় না। আর যেখানে আছে তা কার্যকর নয়। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একেবারে ঢেলে সাজাতে হবে। ছোট থেকে বড় প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গায় থেকে সত্ ও আন্তরিকভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ছড়িয়েছে তৃণমূল পর্যন্ত, যার পেছনে রয়েছে বড় বড় রাঘববোয়াল। এসব রাঘববোয়াল ধরতে না পারলে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা কোনোদিনও দূর হবে না।

বহুদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে যে অনিয়ম চলে আসছে সেটি দূর করে স্বাস্থ্য খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে এ খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। আশা করছি, স্বাস্থ্য খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ,

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়