টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারী আইন অমান্য করে একটি অসাধু চক্র বন বিভাগ ও পাহাড়ের মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চক্রটি পাহাড়ি টিলার লাল মাটি ও বন বিভাগের মাটি কেটে চুরি করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভ্যাকু বসিয়ে মাটি কাটা ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি এলাকার পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানিয়েছেন। আজ সোমবার মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই মাটি চোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মাটি কাটার একটি ভ্যাকু (যন্ত্র) জব্দ করেছেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখি অভিযোগে জানা গেছে, তরফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাইদ আনোয়ার, আওয়ামীলীগ নেতা মো. নাজিম মোল্লা ও তাদের সহযোগী মোকলেছুর রহমান মুকুল, সহিদ মিয়া ও ফরহাদ আলী মইদাসহ ১৫-২০ জনের একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি খলিয়াজানি, ডোহাতলী, পাথরঘাটা, তরফপুর, টাকিয়া কদমাসহ বিভিন্ন গ্রামের পাহাড়ের টিলা ও বন বিভাগের জমিতে ভ্যাকু বসিয়ে পাহাড়ের টিলার লাল মাটি কেটে চুরি করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক দিয়ে নেওয়ার ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদরে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
এদিকে অবৈধ ভাবে বন বিভাগের ও পাহাড়ি টিলা কাটা বন্ধসহ মাটি চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডৌহাতলী (পাথরঘাটা) গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরও আবেদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই কামাল উদ্দিনকে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নানা ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন।
অপর দিকে পাহাড়ি এলাকা লতিফপুর, টাকিয়া কদমা, সিট মামুদপুর, মামুদপুর, বান্দাচালা, লতিফপুর, কোদালিয়া, আজগানা, কোড়াতলী, শেখেরচারা, হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, নয়াপাড়া, পেকুয়া, গায়রাবেতিল, বালিয়াজান, মোতারচালাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি টিলা ও উঁচু এলাকার লাল মাটি চুরির মহোৎসব চলছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে ভ্যেকু ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে রাস্তা-ঘাট তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এলাকার পরিবেশও হুমকির মুখে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান বলেন আমি মাটি চুরির সঙ্গে জড়ি নই। অন্য লোকজন মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। আওয়ামীলীগ নেতা নাজিম মোল্লা ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ার বলেন, এলাকার কিছু অসাধু চক্র চুরি বনের ও পাহাড়ি লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। তারা মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নয় দাবী কওে বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিত ভাবে তাদের নাম ব্যবহার কওে অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আজ সোমবার পাথরঘাটা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি চুরির অভিযোগে সহিদ ও মইদা নামে দুই জনকে আটক করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাটি কাটার ভ্যেকু। তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসআই
