ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাবা-মায়ের সম্পর্কের অবনতির পর ফরিদপুরে খালার সঙ্গে বসবাস করত শিশু মাহিয়া আক্তার পিংকি (১৩) ও মো. বিপ্লব ব্যাপারী (১০)। গ্লাস ভাঙার জেরে বকা খেয়ে খালার বাড়ি থেকে দাদার বাড়িতে রওনা দেয় তারা। কিন্তু পথ ভুলে রাজধানীতে এসে নিরুদ্দেশ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের না পেয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুদের খালা সালেহা বেগম। অবশেষে ২০ সেকেন্ডের মাত্র একটি ফোনকলের সূত্র ধরে ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি দলের ৪৮ ঘণ্টা টানা অভিযানের পর সম্ভাব্য পাচার হওয়ার আগে তাদের উদ্ধার করা হয়।
গতকাল মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আবদুল্লাহ হেল বাকী। তিনি বলেন, এ দুই শিশুর মা গত এক বছর পাঁচ মাস ধরে জর্ডানে কাজ করছেন। বাবা-মার মধ্যে খারাপ সম্পর্ক থাকায় তারা খালার বাড়িতে থাকত। কিন্তু গ্লাস ভাঙা নিয়ে খালা বকা দেওয়ায় তারা দুই ভাইবোন খালার বাসা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়।
সিআইডির সিনিয়র এএসপি আমিনুল হক বলেন, ‘থানা পুলিশের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে। শিশু দুটি রাজধানীর কোনো এক মোবাইল ফোনের দোকান থেকে তাদের বাবাকে ফোন দিয়ে শুধু বলে ‘আব্বু আব্বু।’ কলটির সময় ছিল মাত্র ২০ সেকেন্ড। পরে সেই কলের সূত্র ধরে আমরা শিশু দুটিকে খুঁজতে থাকি। পরে এক দিন দুই শিশু গুলশান মোড়ে বসে কান্না করছিল, সেই সময় এক রিকশাচালক তাদের তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে রিকশাচালক শিশুদের কাছ থেকে তার বাবার নম্বর নিয়ে ফোন করে। তার সূত্র ধরেই আমরা তদন্ত শুরু করি। পরে টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে রিকশাচালকের ফোন কল ট্র্যাকিং করে রাজধানীর ভাটারা থেকে এ দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের ধারণা ঐ রিকশাচালক প্রথমে মানবিক কারণে শিশু দুটিকে তার বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরে তার মনে হয়তো তাদের পাচার করার চিন্তা আসে সেজন্য নিজের ফোন বন্ধ করে ফেলেন। আর সম্ভাব্য পাচারের আগেই আমরা তাদের উদ্ধার করি। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।’ তদন্ত চলছে, পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
