এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিরোধ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫০

যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিরোধ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন। তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক জোট গঠনের পরিকল্পনা নিরাপত্তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিশামমুদ্দিন হুসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক জোট গঠনের কৌশলকে চীন এই অঞ্চলে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ চীন সাগরে এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়ার মার্কিন কৌশলের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আমরা (চীন ও মালয়েশিয়া) উভয়ে মনে করি, দক্ষিণ চীন সাগর কোনোভাবেই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে না। সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা এবং বিচক্ষণতা চীন ও আসিয়ানের রয়েছে। বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আসিয়ানভুক্ত দেশের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিশামমুদ্দিন হুসেন বলেন, সামুদ্রিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ আঞ্চলিক আলোচনার মধ্য দিয়েই নিরসন হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—ঐ অঞ্চলে সামুদ্রিক সাম্রাজ্য গড়তে চাইছে চীন। এ অবস্থায় ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বিশ্বস্ত সহযোগী হতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে পূর্ব এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বলে বিবেচনা করছে বেইজিং।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টোকিও সফর করেন। যেখানে জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়। এর পরই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে সফরে গেলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক জোট গঠনের কৌশলকে বিপজ্জনক পদক্ষেপ সূচনা হতে পারে বলে ওয়াং ই মন্তব্য করেন।