ওসি প্রত্যাহার, আরো এক আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫২

নোয়াখালী প্রতিনিধি

জেলার একলাসপুরে এক নারীকে (৩৫) বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিওচিত্র ধারণ করার ঘটনায় মামলা দায়েরের ৯ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, ওসিকে ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।  তবে কী কারণে তাকে  প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এদিকে রিমান্ডে থাকা এ মামলার ৩ নম্বর আসামি ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ারের প্রধান সহযোগী আবুল কালাম গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জেলার ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মাশফিকুল হক ১৬৪ ধারায় তার  জবানবন্দি রেকর্ড করেন।  পরে  তাকে  কারাগারে পাঠানোর  নির্দেশ দেন আদালত। পিবিআই পরিদর্শক জানিয়েছেন, কালাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনার সময় তার উপস্থিতির বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

দেলোয়ার ৫ মামলায় গ্রেফতার : ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার হোসেনকে  ৫ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। গতকাল সকালে পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়ের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী তাকে জেলার ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করেন।  তিনি দেলোয়ারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাত্ক্ষণিক গ্রেফতারের (শ্যোন অ্যারেস্ট) জন্য আদালতে আবেদন করলে বিচারক  সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাশফিকুল হক তা মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলা এবং আগের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুিট মামলায় দেলোয়ারকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করে আদালত ।

সুমন রিমান্ডে : মামলার ৬ নম্বর আসামি সোমবার গ্রেফতারকৃত শামছুদ্দিন সুমনকে গতকাল একই আদালতে হাজির করে পিবিআই। বিচারক তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলার অপর আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ একই আদালতে নিজে তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার  জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত :জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা হাবিবুর রাসুল মামুন জানিয়েছেন, জেলা বারের কোনো আইনজীবী এ মামলার কোনো আসামিকে আইনি সহায়তা করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার কারণে গতকাল আসামি সোহাগ মেম্বারকে আদালতে কোনো আইনি সহায়তা দেননি আইনজীবীরা। তবে নির্যাতিতা ঐ নারীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা  দেওয়া হবে বলে  তিনি জানান।