বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্ত ১৪ কিশোর আসামীদের রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছে শিশু আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ টায় শিশু আদালতের বিচারক মো: হাফিজুর রহমান আগামী ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। এ সময় কিশোর আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিল।
জানা যায়, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে ৭৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর সকল আসামির পক্ষে বিপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান আসামী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিখণ্ডন শেষে আদালতের বিচারক রায়ের দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বুধবার এই মামলার যুক্তিতর্কের অবশিষ্ট অংশ আদালতে উপস্থাপন করেছি। যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ২৭ অক্টোবর আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মো: শাহজাহান বলেন, আমি আসামীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছি। সাক্ষ্যদের জেরা করেছি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আদালতের কাছে বলেছি। আমার আসামীরা নির্দোষ। কথিত ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাদের বিচার করেছে। আমার বিশ্বাস আসামীরা নির্দোষ প্রমাণিত হবে।
আরো পড়ুনঃ মূল্যায়ন পদ্ধতিটি যেন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সেদিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
এদিকে মামলার ধার্য তারিখ থাকায় সকাল নয়টার দিকে আদালতে হাজির হন এ মামলায় জামিনে থাকা ৮ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি আসামী চন্দন সরকার, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক, মারুফ বিল্লাহ, রাতুল সিকদার ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ। কড়া নিরাপত্তায় বরগুনা কারাগার থেকে ৬ আসামী রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবু আব্দুল্লাহ রায়হান, ওয়ালিউল্লাহ ওলি, নাঈম ও তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। আদালতে আসা সকল বিচার প্রার্থীদের তল্লাসী করে ভিতরে ঢুকানো হয় ।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আরও বলেন, আমরা আদালতের কাছে সকল আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশা করি আদালত এই মামলার সকল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আছাদুজ্জামান অভিযোগ গঠন করেন।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৪ জনের নামে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো: আছাদুজ্জামান মিন্নিসহ ৬ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৪ আসামীকে খালাস প্রদান করেন।
গতবছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে তাঁর স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে রিফাত শরীফ মারা যায়। পরদিন ২৭ জুন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/এমএএম
