আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় বিসিবি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৩

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

বিশাল গেটগুলো নির্জনে দাঁড়িয়ে আছে। গ্যালারিতে কোলাহল নেই, ভেতরে ঢোকার ব্যস্ততা নেই। কেবল কয়েকটা আকাশ ছোঁয়া ব্যানারে বড় বড় করে লেখা—উই আর ব্যাক ইন ক্রিকেট।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্রিকেটে ফিরলেও এর জন্য বিপুল অর্থের লোকসান সহ্য করতে হচ্ছে।

তাই বলে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ এই ক্রিকেট বোর্ডটির টাকার ভাড়ারে এখনো টান পড়েনি। এরপরও নিয়মিত সব আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটা অস্বস্তি আছে। সেই অবস্থা থেকে অবশেষে বিসিবিকে বের করে আনতে যাচ্ছে পাঁচ দলীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। নভেম্বরে প্রস্তাবিত এই টুর্নামেন্টটাতে বেশ ভালো কিছু স্পন্সর আশা করছে বোর্ড। আর সেটা হলে দীর্ঘদিন পর আয়ের মুখ দেখতে পারে বিসিবি।

করোনার কারণে বাংলাদেশের জন্য প্রথম ধাক্কা ছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটো হোম সিরিজ বাতিল হয়ে যাওয়া। সিরিজ দুটো হলে বেশ ভালো রকমের টিভি স্বত্ব, স্টেডিয়ামের বিজ্ঞাপনী আয় এবং গেট মানি আসত। এরপর বিসিবির সবচেয়ে বড় আয়ের উত্স হলো আইসিসি ও এসিসি ইভেন্ট থেকে পাওয়া টাকা। এ বছর আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপও বাতিল হলে বড় ধাক্কা খায় বিসিবি। শেষমেশ আয়ের আরেকটা বড় উত্স বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল) এ বছর হচ্ছে না।

ফলে আয় সবদিক থেকেই বন্ধ। এই আয় বন্ধ হয়ে থাকার ব্যাপারটা স্বীকার করে নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলছিলেন, ‘এটা তো সত্যি। বেশকিছু হোম সিরিজ ও আইসিসি ইভেন্ট স্থগিত হয়ে গেছে। এগুলো কবে হবে, আমরা ঠিক জানি না। বিপিএলও করা যাচ্ছে না। ফলে আয়ে তো সব বোর্ডের মতো আমাদেরও প্রভাব পড়েছে।’

বিসিবি আরো একটা জায়গায় বাকি বোর্ডগুলোর চেয়ে বেশি বেকায়দায় আছে। গত জানুয়ারিতে টিম স্পন্সর ইউনিলিভারের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি খারাপ থাকায় বিসিবি নতুন টিম স্পন্সর চেয়ে বিজ্ঞাপনই দিতে পারছে না। বিসিবির এই কর্মকর্তার ভাষ্য, জাতীয় দলের খেলা না থাকলে এই ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও থাকে না। ফলে এই খাত থেকেও আয়টা বন্ধ হয়ে আছে।

এর মধ্যে খরচের কমতি নেই। করোনা কালেই জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য ব্যয়বহুল ক্যাম্প চালানো হচ্ছিলা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প চলেছে। এর মধ্যে আবার তিন দলীয় টুর্নামেন্ট করা হচ্ছে সবাইকে পাঁচ তারকা হোটেলে জৈব বলয়ে রেখে। এই টুর্নামেন্টের পুরস্কারই স্রেফ ৩৬ লাখ টাকা। মোট খরচ কোটি টাকায় পৌঁছাবে হয়তো।

সঙ্গত কারণে ব্যয় বাড়ছেই। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে বিসিবি পাঁচ দলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। এতে টুর্নামেন্টের এবং প্রতিটি দলের জন্য স্পন্সর নেবে বিসিবি। সুজন আশা করছেন, এই টুর্নামেন্টটা তাদের আর্থিক কার্যক্রমকেও গতি দেবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ক্রিকেট ফেরানো। সে জন্যই ধারাবাহিকভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে এটা সত্যি যে, এই টুর্নামেন্টটা আমাদের কিছু আয় এনে দেবে বলেও আশা করছি আমরা।’