বিশেষ প্রতিনিধি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশের নির্যাতনে’ রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য তথ্য দিয়ে নিয়মিত বাহিনীগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে অন্য ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের ঘটনাটি এখন তদন্তে রয়েছে। সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। কোতোয়ালি থানাধীন কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল। হঠাত্ সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তার ময়নাতদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে—সেই অনুযায়ী এবং তার স্ত্রী যে মামলা করেছেন সবগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গুজব ছড়ানো :সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। সবসময় মনিটর করছে, কে করছে, কোথা থেকে আসছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য অনেক তথ্য আসছে সেগুলোর সত্যতার ঘাটতি রয়েছে বা অপলাপ হচ্ছে। আদালতের রায় নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন কায়দায় একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য মিথ্যা-অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য। আমাদের নিয়মিত বাহিনীগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে একটা অন্য ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা এই কাজগুলো করছে বলে প্রতীয়মান হওয়াতে আমরা মঙ্গলবার প্রেস রিলিজটি দিয়েছি।’ কারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো তো আপনারা দেখছেন। কিছু কিছু নাম আছে। এগুলো তারাই করছেন কি না, এগুলো তদন্তের বিষয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ফেসবুক অথরিটির সঙ্গে আমাদের মাঝে মধ্যেই বসা হচ্ছে। ফেসবুক আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সবসময় যে সহযোগিতা পাই সেটা আমরা বলব না। আমরা তাদের সবসময় জানাচ্ছি।
নারী নির্যাতন :নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ হয় না, এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ কেবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নারী নির্যাতন আইন আরো কঠোর করার। নারী নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশের সিদ্ধান্তটি এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিচারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যা করা প্রয়োজন করছি।
অ্যাসিড নিক্ষেপ :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসিড নিক্ষেপ নিয়মিত ঘটনা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখন এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলো এবং তার কয়েকটি রায় কার্যকর হওয়ার পর এটি কমে গেছে। এখন নারী নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এটিও কমে যাবে।
