রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাহিম সালেহকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভন হাসপিল আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ম্যানহাটন জেলা অ্যাটর্নি অফিসের বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, হাসপিলের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, মরদেহ গুমসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার ম্যানহাটন রাজ্য আদালতের বিচারকের সামনে স্কাইপে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার শুনানি আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই নিউ ইয়র্কে নিজের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ফাহিমের খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। ফাহিম সালেহ বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া এবং উত্তর আমেরিকাতে সফল প্রযুক্তি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ২০১৮ সালে পাঠাও ছাড়ার পর নাইজেরিয়ায় ‘গোকাদা’ নামে একই রকম আরেকটি স্টার্টআপের উদ্যোগ নেন তিনি। অতি সম্প্রতি তিনি ‘ম্যানহাটন ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মতে, সিসিটিভি ক্যামেরায় সালেহকে সর্বশেষ দেখা গেছে কালো পোশাক এবং মাস্ক পরা একজনের সঙ্গে লিফটে উঠতে। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, সালেহর মৃত্যু হয়েছে ঘাড় থেকে এবং ধড়ের মধ্যে পাঁচটি ছুরিকাঘাতের কারণে। সালেহর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি ইলেকট্রিক করাত, কাঁচি, ছুরি, গ্লাভস এবং একটি মুখোশ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে, যার ভেতরে সালেহর মাথা এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ছিল। এরপর ফাহিম সালেহকে হত্যার অভিযোগে তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলকে (২১) গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, সালেহর আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয় দেখাশোনা করতেন হাসপিল। তিনি সালেহর কাছ থেকে কয়েক হাজার ডলার ঋণ নিয়েছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সালেহ মারা যাওয়ার পর ম্যানহাটনের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে বৈদ্যুতিক করাত এবং পরিষ্কার করার বিভিন্ন সামগ্রী কেনার ভিডিও উদ্ধার করা হয়। যা কিনছিলেন হাসপিল। এই সামগ্রীগুলো সালেহর বিচ্ছিন্ন দেহের কাছেই পাওয়া গিয়েছিল।
