মন খুলে বলেছেন সমস্যার কথা, পেয়েছেন দ্রুত সমাধান

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৮

বৃদ্ধা মিনারা বেগম। তার থাকার মতো নিজের একটি ঘর নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। রোজগার করে পরিবার চালানোর মতো কোনো পুরুষ মানুষও নেই। গ্রামের বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা পান, তাই দিয়ে চলে তার সংসার। নিজের বলতে আছে ৫ শতাংশ জমি। কিন্তু সেখানে যে একটি ঘর বানাবেন, সেই সামর্থ্য নেই। ইউএনও নাগরিকদের সমস্যা শুনবেন, এ খবর শুনে তিনি উপজেলা পরিষদে ছুটে এসেছিলেন।

দুপুরে আরও অনেকের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার ঘরের কথা মন খুলে বলেন। ইউএনও যখন তার কথা নোট করছিলেন, মিনারা তখন কাঁদছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই কান্না হাসিতে পরিণত হয়েছে মিনারা বেগমের। সমস্যার কথা শোনে ইউএনও তাৎক্ষণিক তাকে একটি ঘর তৈরি করে দিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। 

মিনারা বেগমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মহোদিকোনা গ্রামে। মিনারা বেগম বলেন, ‘একটা ঘরের কথা কইমু। এর লাগি বড় আশা লাইয়া উপজিলাত (উপজেলা) আইছলাম। কিন্তু অত তাড়াতাড়ি ঘর অইবো চিন্তা করছি না। টিওন স্যারের (ইউএনও) লাগি ও সরকারের লাগি দোয়া করমু রে বাবা।’

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও আপত্তি নিয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানি করেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শামীম আল ইমরান। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রথমবার বড়লেখা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় দ্রুত সেবাপ্রত্যাশী মানুষদের বেশিরভাগের সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিক হয়েছে। কিছু সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের বুধবার এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: উবায়েদ উল্লাহ খান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম।

গণশুনানিতে সুজানগর ইউনিয়ন থেকে আসেন হাছনা বেগম। জং ধরে তার ঘরের টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। অসুস্থ স্বামী নিয়ে ঘরে কষ্টে বসবাস করছেন। তার নতুন টিনের প্রয়োজন। কিন্তু কেনার সামর্থ্য নেই। তার কথা শোনে তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে টিন দেওয়া হয়। সীমান্তবর্তী এলাকা উত্তর শাহবাজপুর থেকে আসেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জয়নুল আহমদ। তার একটি লাঠি প্রয়োজন ছিল। তাৎক্ষণিক সমস্যার কথা শোনে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে একটি ডিজিটাল সাদাছড়ি দেওয়া হয় তাকে। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তারের শিক্ষাসামগ্রী কেনার জন্য ২ হাজার টাকা চেক প্রদান করা হয়। এভাবে ২১জন নারী-পুরুষ নানা সমস্যা ও অভিযোগের কথা বলেন। তাৎক্ষণিক বেশিরভাগ সমাধান হয়েছে। অন্যগুলো সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামীম আল ইমরান বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বলেন, ‘মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক সেবাপ্রত্যাশী নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও আপত্তি নিয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানি শুরু করেছি। প্রতি বুধবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সমস্যার কথা শোনে তাৎক্ষণিক বেশিরভাগ সমাধান দেওয়া হয়েছে। অন্যগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করবে।’


ইত্তেফাক/এমএএম