এসএমইর কর্মতত্পরতা বাড়াতে হবে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩২

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প কম পুঁজিনির্ভর, কর্মসংস্থান এবং আয়ের সুযোগ বেশি। বিদ্যুত্ ও জ্বালানি শক্তির ব্যবহারও অপেক্ষাকৃত কম এবং পরিবেশদূষণের মাত্রা কম। যারা বেকার জীবনযাপন করছে, শিক্ষিত হয়েও চাকরি পাচ্ছে না, মূলধনের অভাবে ব্যবসায় সম্পৃৃক্ত হতে পারছে না—এই বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানা এবং বহু কারুপল্লি। এগুলোতে উত্পাদন হচ্ছে হস্ত, কুটির ও কারুপণ্য সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে মৃিশল্প, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, তাঁতশিল্প, মাদুর, জামদানি, বেনারসি, নকশিকাঁথা, তালপাখা, শতরঞ্জি, হোসিয়ারি পণ্য, শীতলপাটি, গুড়, শাখের অলংকার ইত্যাদি। এইসব পণ্যের দেশীয় বাজারে বিপুল চাহিদা রয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া সমুদ্র থেকে আহরিত শামুক-ঝিনুক দিয়ে বানানো নান্দনিক ডিজাইনের অলংকার, খেলনা, ফলক ও কারুপণ্যেরও চাহিদা কম নয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যেমন সাবানশিল্প, জুতাশিল্প, চামড়াশিল্প, ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প, পোশাকশিল্প ইত্যাদি। বিদেশে চামড়ার তৈরি ব্যাগ, জুতো, বেল্ট, জ্যাকেটের বিপুল চাহিদা রয়েছে। তাই এই শিল্পগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে আমাদের জিডিপি বাড়ানো যেতে পারে।

বাংলাদেশ যেহেতু জনবহুল দেশ এবং বিপুলসংখ্যক জনশক্তি থাকলেও প্রযুক্তিখাতে তারা অদক্ষ। উচ্চশিক্ষিতের হার বাড়ছে, বেকারত্বের হারও বাড়ছে। গত ১০ বছরে কৃষিখাত, শিল্পখাত ও নির্মাণখাতে কর্মসংস্থান কমেছে। তাই স্বল্প পুঁজিতে অধিকসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে, বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে। যেহেতু মূলধনের পরিমাণ কম এবং অবকাঠামোগত কারণে কৃষিতে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না, তাই বাংলাদেশের উদ্ভাবনী ও জ্ঞানসমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কিছু অসুবিধা এবং পশ্চাত্পদতা রয়েছে এই শিল্পগুলোতে, তাই সেগুলো উত্তম পরিকল্পনার মাধ্যমে দূর করতে হবে। সরকার বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প-২০২১ গ্রহণ করেছে। তরুণদের প্রযুক্তিখাতে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন যুব উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখাসহ সার্বিক কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী এবং এসএমই-র বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে। এসএমই খাতে ঋণ প্রদানে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে চালিত করছে গার্মেন্টসশিল্পে নিয়োজিত নারীরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪০ শতাংশ এসএমইখাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ খাতকে আরো এগিয়ে নিতে সরকার ঘোষিত নীতিমালার আলোকে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য কর্মতত্পরতা বাড়ালে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়