ঝিনাইদহে পেঁয়াজবীজের দাম চড়া!

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৪

ঝিনাইদহ জেলায় পেঁয়াজবীজের মূল্য বৃদ্ধিতে দরিদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। এদিকে পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যের কারণে চাষিরা এবার পেঁয়াজ চাষেও ঝুঁকেছেন।

শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের চাষি ইব্রাহিম হোসেন জানান, এবার দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। হাইব্রিড বীজ কেনার সামর্থ্য নেই। তাই লাল তীর কিং জাতের পেঁয়াজ চাষ করবেন। দোকানদার ১ কেজি ৯ হাজার টাকা দাম চাচ্ছেন। একই উপজেলার ভান্ডারিপাড়ার চাষি ময়েন উদ্দিন জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। ৮০ মণের ওপর ফলন পান। এবার দুই বিঘাতে চাষ করবেন। ইচ্ছা ছিল হাইব্রিড জাত চাষ করবেন। কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি হওয়ায় লাল তীর কিং জাতের চাষ করবেন। বীজ ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজির দাম চাচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বীজ ভালো না হলে ফলন ভালো হয় না। তাই নামিদামি কোম্পানির বীজ কেনার চিন্তা করছেন।

ঝিনাইদহ বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক শফিউদ্দিন সুজন জানান, এবার বিএডিসি বীজ বিক্রি করবে না। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচিতে নির্বাচিত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হবে। এখনো এ বীজ বরাদ্দ আসেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, চলতি রবি মৌসুমে এ জেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যের জন্য চাষিরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। বীজের উচ্চ মূল্যের কথা তিনি স্বীকার করেন। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিঘা প্রতি এক কেজি বীজ লাগে। এ হিসাবে ঝিনাইদহ জেলায় ৭০ টন বীজ দরকার হবে।  ইতিমধ্যে চাষিরা আগাম বীজতলা তৈরি শুরু করে দিয়েছে।

সুজানগরে আগাম পেঁয়াজ আবাদ ব্যাহত

সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারণে পাবনার সুজানগরে এবার আগাম পেঁয়াজ (মূলকাটা) আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাটবাজারে পেঁয়াজের বর্তমান চড়া বাজার আরো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আগাম (মূলকাটা) পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর মাসের ১০/১৫ দিন যেতে ঐ পেঁয়াজ আবাদ শুরু হয়। কিন্তু অতিবৃষ্টি আর বন্যার কারণে এবার যথাসময়ে আবাদ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বড় পেঁয়াজ চাষি কামরুজ্জামান বলেন, উপযুক্ত সময়ের ১৫/২০ দিন পর চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এবার মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ শুরু হয়েছে। তাছাড়া এখনো অনেক মূলকাটা আবাদি জমিতে পানি রয়েছে। ঐ সব জমি মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের উপযোগী হতে এখনো প্রায় ১০/১২ দিন সময় লাগবে। উপজেলার মানিকহাট গ্রামের আদর্শ কৃষক ওমর আলী প্রামাণিক বলেন, সঠিক সময়ে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করা গেলে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই উঠানো যেত। কিন্তু আবাদ ১৫/২০ দিন দেরি হওয়ায় উঠাতেও দেরি হবে। এ ক্ষেত্রে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে উঠানো শুরু হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার বলেন, অতিবৃষ্টি আর বন্যার কারণে আগাম পেঁয়াজ আবাদ যথাসময়ে করা না গেলেও বর্তমানে হাটবাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া হওয়ায় এ বছর আগাম পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ইতিমধ্যে চরাঞ্চলের উঁচু জমিতে ব্যাপকভাবে ঐ পেঁয়াজ আবাদ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।