পুরুষ শ্রমিকের সমান কাজ করলেও নারীর মজুরি কম!

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:১৩

আমরা যে কাজ করি তার যথাযথ মূল্যায়ন পাই না। ধানের বীজ বোনা, সার দেওয়া, ধান কাটা এবং পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে কৃষিজমির সব ধরনের কাজ করি। কিন্তু তার যথাযথ পারিশ্রমিক পাই না। নারী-পুরুষ একসঙ্গে সমান কাজ করলেও মজুরির ক্ষেত্রে পুরুষরা বেশি টাকা পান, নারীরা পান কম মজুরি’—কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা জেলার ধর্মপুর এলাকার কৃষিশ্রমিক জাহানারা বেগম।

আমাদের দেশে মাত্র ৪ শতাংশ নারী তাদের ভূমি অধিকার পাচ্ছেন। বাকি ৯৬ শতাংশ নারী ভূমির মালিকানা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত। সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে নারীর কোনো অধিকার নেই। বাংলাদেশের ৯৬ শতাংশ জমির মালিক পুরুষ। সংবিধানে একাধিকবার নারী-পুরুষ সম-অধিকারের কথা বলা হয়েছে। তবে ভূমি অধিকারের বেলায় কোনো সমন্বিত আইন করা হয়নি। ধর্মীয় আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, গ্রামীণ মুসলিম নারীদের মাত্র ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ তাদের প্রাপ্য সম্পত্তির ভাগ পান। তাদের মধ্যে আবার ৩৭ শতাংশ নারী জমির বদলে টাকা নিতে বাধ্য হন। আবার যে টাকা তাদের দেওয়া হয়, তাও ওই জমির প্রকৃত মূল্যের মাত্র ৪০ শতাংশ। তাদের মধ্যে মায়ের কাছ থেকে পান ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বাবার কাছ থেকে পান ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ। স্বামীর কাছ থেকে পান ১৮ শতাংশ।

এ ছাড়া দেশে হিন্দু নারীরা ভূমি অধিকার থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও হিন্দু নারীদের ভূমির মালিকানা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মাতৃপ্রধান পরিবার গারো সমপ্রদায়ের নারীরা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। গ্রামীণ নারীরা কাজ করছেন, তবে তা অনানুষ্ঠানিকভাবে। যে কারণে কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। শস্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বীজতলা নির্মাণ, শস্য বাজারজাতের কাজ করছেন নারীরা। তারা ৩৫ থেকে ৪০ ধরনের কাজ করছেন। কিন্তু তার আনুষ্ঠানিকতা আমরা দেখি না। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের কৃষিতে ৪০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু অর্থনীতিতে তাদের অবদান মাত্র ১৩ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যে পরিমাণ খাদ্য উত্পাদন হচ্ছে, তার ৮০ শতাংশ নারী উত্পাদন করছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা উত্পাদনে অনেক অবদান রাখছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কৃষিতে নারীদের যে অবদান সেটি খুব ছোট করে দেখানো হচ্ছে। নারীরা এখন চিংড়ি চাষ, চা বাগান, কৃষিখেতে কাজ করছেন। কিন্তু সেগুলো সামগ্রিকভাবে উঠে আসছে না।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ভূমিহীন নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরেও বাংলাদেশে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।