প্রতি পরিবারের কাছে ৪ থেকে ৬ হাজার করে টাকা হারে হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় ওই দালালচক্র। আবার টাকা দিয়েও বছরের পর বছর দালালদের পিছনে ঘুরেও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে টাকা ছাড়া পল্লী বিদ্যুতে সংযোগ পাচ্ছে না গ্রাহকরা। আবার টাকা দিয়েও প্রতারিত হচ্ছে হাজার গ্রাহক। বছরের পর বছর ঘুরেও মিলছে না পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ- এ উদ্যোগ ব্যহত হতে চলেছে।
জানা যায়, স্থানীয় একটি দালালচক্র উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল নিরীহ মানুষকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা। ওই দালালচক্র পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে এসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পেতে ৫শত টাকা ব্যাংক একাউন্ট ও ১৫টাকা ভ্যাট জমা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে হচ্ছে তার উল্টোটা।
উপজেলা টাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বাকাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মিস্টার নবেশ খকশী, মোঃ আব্দুল ছামাদ, ছোট গজনী গ্রামের ফিলিশন সাংমা ও আব্রাহাম সাংমাসহ গ্রামবাসীরা জানায়, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে ২০১৫ সালে ওই গ্রামের ৭০টি পরিবারের ৫হাজার টাকা হাড়ে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় পল্লী বিদ্যুতের দালাল উপজেলা সদরের সেলিম মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছরেও বিদ্যুৎ পায়নি গ্রামবাসীরা।
গান্ধিগাঁও গ্রামের উমেদ আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এক লিখিত অভিযোগে জানান, গান্ধীগাঁও, হালচাটি ও নকশি গ্রামের ২শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালালচক্র। কিন্তু আজও তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি।
এভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তাদের সঙ্গে দালালচক্রের কোনো সর্ম্পক নেই বলেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে ওই দালালচক্র অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ড। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার বরাবর গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না গ্রামবাসীরা।
এ ব্যপারে পল্লী বিদ্যুতের শেরপুর জেনারেল ম্যনেজার মোঃ মাশরুল হক খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রামে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব ঠিকাদারের, আমাদের কাজ শুধু সংযোগের অনুমতি দেওয়া। আমাদের আওতায় কোনো দালাল নেই। ৫১৫ টাকা জমা দিয়ে যে কোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পারেন।’
কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জহরুল হক বলেন, তার ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। তিনি এধরণের ঘটনার প্রতিকার আশা করেন।
আরও পড়ুনঃ খুলনায় উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে জেলা জেপির কর্মীসভা
অভিযুক্ত সেলিমের সাথে কথা হলে সে জানায়, উত্তোলনকৃত টাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো অভিযোগ এসেছে কি না তা নির্বাচনের কারণে স্মরণ নেই। ভূক্তভোগিরা আমার কাছে এলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
