এইচএসসি পরীক্ষা-২০১৯
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র
অলোক কুমার মিস্ত্রী, প্রভাষক ও ট্রেনার
জীববিজ্ঞান বিভাগ
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আশা করি, পরীক্ষা সামনে রেখে সবাই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করছো। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের নবম অধ্যায়ের মানবজীবনের ধারাবাহিকতা-বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো, যা ২০১৯ সালের এইচ.এস.সি সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ সামিয়া ইদানিং তার নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। এ বিষয়ে সে তার ডাক্তার মায়ের কাছে জানতে চাইলে, সামিয়ার আম্মু বললেন, ভয় পাবার কিছুই নেই। বার-তের বছর বয়সে এ রকম একটু আধটু হয়ে থাকে। এটি হরমোনজনিত সমস্যা।
(ক) ইমপ্লান্টেশন আসলে কী ? ১
(খ) হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা হয় কেন ? ২
(গ) সামিয়ার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো উল্লেখ কর। ৩
(ঘ) সামিয়ার সমস্যাটা আসলে হরমোনজনিত - উক্তিটির স্বপক্ষে তোমার মতামত তুলে ধর। ৪
(ক) ইমপ্লান্টেশন : বর্ধনশীল মানবভ্রুণ জরায়ুর প্রাচীরে সংক্রমিত হওয়ার কৌশল হলো ইমপ্লান্টেশন।
(খ) উত্তরঃ হরমোন অতি অল্প পরিমাণে বিশেষ বিশেষ শারীরবৃত্তীয় কাজ সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এরা উত্তেজক বা রোধক হিসেবে দেহের পরস্ফুিটন, বৃদ্ধি ও বিভিন্ন টিস্যুর কার্য নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যক্তির আচরণ, স্বভাব ও আবেগ প্রবণতার উপরও হরমোনের প্রভাব অপরিসীম। এগুলো রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে উত্পত্তিস্থল থেকে দূরবর্তী কোনো কোষ বা অঙ্গকে উদ্দীপ্ত করে থাকে। এজন্য হরমোনকে রাসায়নিক দূত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
(গ) উত্তর: সামিয়ার এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক উভয় পরিবর্তনই ঘটে।
শারীরিক পরিবর্তন ঃ
কণ্ঠস্বরে মেয়েলি স্বর এর প্রকাশ
শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেদ সঞ্চিত হয়
বগল ও শ্রেণিদেশে লোম হয়
জননাঙ্গের হরমোন উত্পন্ন ও ক্ষরিত হয়
হূদপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়
রজ:চক্র আরম্ভ হয়
মানসিক পরিবর্তন :
নারীসুলভ মানসিকতার প্রকাশ
পুরুষের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়া
(ঘ) উত্তর: আমাদের দেহে যেসব প্রজনন সংক্রান্ত গ্রন্থি রয়েছে সেসব গ্রন্থি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং যৌন লক্ষণ প্রকাশে অন্যতম ভূমিকা রাখে। উক্ত গ্রন্থিগুলো থেকে নি:সৃত হরমোন দেহে রাসায়নিক দূত হিসেবে কাজ করে থাকে। এবং শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মানব শিশু জন্মগ্রহণের সময় তাদের প্রজননতন্ত্র অপরিণত অবস্থায় থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে। যা উদ্দীপকের সামিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সামিয়ার দেহ নিঃসৃত বিভিন্ন ধরণের হরমোন। এসব হরমোনের মধ্যে রয়েছে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন যা যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। এছাড়া ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন নারী সুলভ লক্ষণ সৃষ্টি, ধাতুচক্র নিয়ন্ত্রণ, ডিম্বাণু উত্পাদন ইত্যাদিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরকি্রন হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি, যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। সর্বোপরি পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন অন্যান্য যৌন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কাজেই সামিয়া যখন কৈশোর পার হয়ে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায় তখন এসব হরমোনের ক্রিয়া তার দেহে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটায়; যেমনঃ নারী সুলভ লজ্জা ও সংকোচ প্রকাশ, দেহত্বকে লোম হওয়া।, ঋতুস্রাব হওয়া ও চেহারায় নমনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি। ফলে তারা মানসিক পরিবর্তন হওয়ার কৈশোরে দুরন্তপনা, দৌড়াদৌড়ি ইত্যাদির সাথে তার সংশ্লিষ্টতা আর থাকে না।
কাজেই, সামিয়ার বার বছর বয়স থেকে উপর্যুক্ত হরমোনগুলোর নিঃসরণ কার্যকর হওয়াতেই তার সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো ঘটেছে। তাই সামিয়ার দৈহিক, শারীরবৃত্তিক ও মানসিক পরিবর্তন অর্থাত্ বয়ঃপ্রাপ্তি হরমোনের প্রভাবেই ঘটেছে।
