শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ শুকনো মৌসুমে মেরামতের জন্য বরাদ্দের সুপারিশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৭

ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা

ইত্তেপাক রিপোর্ট

ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ আগামী শুকনো মৌসুমে মেরামতের জন্য জরুরি বরাদ্দের সুপারিশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, মূলত নদীতে পলি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এই জলাবদ্ধতাকে বাড়িয়ে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারকে এ দুটি বিষয়কেই বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে যথাযথ সুফল নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় সরকারের জন্য বাজেট বরাদ্দ  রাখতে হবে। গতকাল শনিবার ‘শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি বাজেট বরাদ্দ দাবি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কোস্ট ট্রাস্ট ও স্থায়িত্বশীল গ্রামীণ জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) যৌথভাবে এই ভার্চুয়াল সেমিনারের আয়োজন করে।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। অন্যান্য উন্নয়নের বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাঁধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্য আমাদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি প্রয়োজন। এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে এবং এতে সমাধানগুলো স্থায়িত্বশীল হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, টেকসই বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার নীতিমালা না থাকায় প্রতি বছর বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের নামে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে কোস্ট ট্রাস্টের আরিফ দেওয়ান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় দেশের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় রোধে আসন্ন শুকনো মৌসুমে বেড়িবাঁধগুলো জরুরি মেরামতের প্রয়োজন। প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের মাত্র ৩ দশমিক শূন্য শতাংশ অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে পাঁচ বছরের জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় বাঁধ নির্মাণের খরচ মেটানো সম্ভব।

বরগুনা-২ আসনের ধীরেন্দ্রনাথ শম্ভু এমপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আসন্ন শুকনো মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামত করার জন্য বিশেষ আপত্কালীন তহবিল সৃষ্টিরও সুপারিশ করেন। গাইবান্ধা-১ আসনের ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারী এমপি বলেন, নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষ বাস্তচ্যুত হচ্ছে। বর্তমান জাতীয় বাজেট অপ্রতুল, দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা ও নদীভাঙন রোধের জন্য বিদেশি সহায়তাও বাড়ানো প্রয়োজন।

ওয়েবিনারে কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. তালুকদার আবদুল খালেক, সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা। এছাড়া কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনা, রংপুর, ভোলা ও গাইবান্ধা জেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান অংশগ্রহণ করেন।