ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে দিনে তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন সেবাদাতারা। গতকাল শনিবার বিকেলে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর তারা এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তবে আজ রবিবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম। তিনি বলেন, মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান না হলে আমরা নতুন সিদ্ধান্ত নেব। যদিও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তাদের অনুরোধ করেছেন, মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান না হলেও তারা যেন ধর্মঘটের মতো কোনো কর্মসূচিতে না যান। কারণ রবিবারই তাদের সমস্যার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। ভার্চুয়াল ঐ বৈঠকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাদের আশ্বস্ত করেন, নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আর তার কাটা হবে না। পাশাপাশি সুরাহার জন্য পলক তাদের কাছে এক সপ্তাহ সময় চান। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী চিঠি দিয়ে আপাতত ঝুলন্ত তার অপসারণ না করতে দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে সরকার যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সে বিষয়ও অবহিত করেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যসচিব আজ পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন বলেও জানান মন্ত্রী।
এর আগে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন থেকে ঝুলন্ত তার অপসারণের কাজ বন্ধ না করলে রবিবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারা দেশে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। তাদের এই ঘোষণায় উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে ব্যাংক ও মোবাইলে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছিলেন তারা।
এদিকে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে অনলাইনের ক্লাস নেওয়া বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুলের সময় পালটে সকালের বদলে রাতে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিকালে বিষয়টির সুরাহায় উদ্যোগী হন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক।
আইএসপিএবি সভাপতি আবদুল হাকিম বলেন, মন্ত্রী (মোস্তাফা জব্বার) আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের সংকট প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করবেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর সেই সিদ্ধান্তের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকব। তার বক্তব্যের পর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যত দ্রুত পারি সিদ্ধান্ত নেব। এখন তিনি কবে আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসেন, সেটা কিন্তু আমি এখনই বলতে পারব না।
ভার্চুয়াল ঐ বৈঠকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আফজাল হোসেন, আইএসপিএবি মহাসচিব ইমদাদুল হক এবং কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজও উপস্থিত ছিলেন।
