ফুটবল উন্নয়নে অন্তত ৫ হাজার কোচ দরকার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৯

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

দেশের ফুটবল উন্নয়ন করতে হলে সবার আগে ফুটবল কোচ দরকার। এই মুহূর্তে দেশের ফুটবলে অনন্ত ৫ হাজার কোচ দরকার। ফুটবলে শিক্ষিত কোচ দরকার। কোচেস এডুকেশন যারা করেছেন তাদের দরকার। এমন কথা শুনিয়েছেন দেশের প্রথম উয়েফা লাইন্সেসধারী কোচ মারুফুল হক। ইউরোপ থেকে কোর্স করে এসেছেন মারুফ। তার পরও বর্তমানে বাফুফে পরিচলিত কোচেস ইন্সট্রাক্টর কোর্স করছেন টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পলস্মলীর অধীনে। ২২ জন অংশগ্রহণ করছেন। যেখানে মারুফুল হক ছাড়াও আছেন একগাদা সাবেক ফুটবলার ও বর্তমান কোচ। এদের মধ্যে সাবেক গোলকিপার ছাঈদ হাসান কানন, জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু, সাইফুল বারী টিটু, আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু, আবু ফয়সাল, মাসুদ পারভেজ কায়সার, আকবর হোসেন রিদন, পরিতোষ দেওয়ান, হাসান আল মামুনের ভাই হাসান আল মাসুদ, উজ্জ্বল চক্রবর্তী শিবু, শহিদুল হক জুয়েল, রেফারি সুজিত কুমার, ধারাভাষ্যকার সালাউদ্দিন, নারী কোচ এবং রেফারি জয়া চাকমা প্রমুখ। তারা কোর্স সম্পন্ন করে কোচদের কোর্স করাতে পারবেন। 

অনেকে বলেন পাইপলাইনে ফুটবলার নেই। মারুফুল হক এই কথায় প্রবল আপত্তি করলেন। ‘এটা ভুল কথা। পাইপলাইনে প্রচুর খেলোয়াড় রয়েছে। আমি ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম অনূর্ধ্ব-১৭ এবং ১৮ ফুটবলার বাছাই করার জন্য। সাড়ে ২০০ ফুটবলার ট্রায়ালে এসেছিল। ৬৫ জনকে বাছাই করলাম—বললেন মারুফ। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘ইংল্যান্ডের চেয়েও বাংলাদেশের পাইপলাইনে খেলোয়াড় বেশি। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। কিন্তু ইংল্যান্ডের পাইপে পরিষ্কার পানি আর আমাদের পাইপে ময়লা পানি। পরিষ্কার পানি পেতে প্রচুর কোচ বের করতে হবে।’

মারুফ ফুটবলের সব লেভেলে কোচ বাড়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন। সাহস দেখিয়ে মারুফুল হক নিজের টাকা খরচ করে ইংল্যান্ড গিয়ে উয়েফা লাইসেন্স কোর্স করেছিলেন ২০১৫ সালে, শুধু দেশের ফুটবলে অবদান রাখার জন্য। এখন এডুকেটর হওয়ার জন্য কোর্স করছেন আবার সেই পলের কাছে। ইংল্যান্ডে এই পলের কাছেই উয়েফা করেছিলেন তিনি। তার মতে দেশে তৃণমূলে অন্তত ২ লাখ ফুটবলার আছে। সেই হিসেবে কোচের সংখ্যা ২০০-২৫০ মাত্র। কোচের সংখ্যা যত বেশি বাড়বে খেলোয়াড় তত বেশি শিখবে। মারুফুল বলছেন, ‘একটা ছেলে পাড়ার বড় ভাইয়ের কাছে শিখে যখন ঢাকায় আসে তখন আর সঠিকটা শেখার বয়স থাকে না। তৃণমূলে ফুটবল এডুকেটেড কোচ থাকলে গ্রামের ছেলেও সঠিক জিনিসটা শিখবে।’

মারুফের কথাও যেন গোলকিপার কাননের কণ্ঠে। ভিত মজবুত না হওয়ায় বড় লেভেলে গিয়ে টিকতে পারছে না খেলোয়াড়। এখানে ফাউন্ডেশন দরকার। আমরা কোচদের কোচিং কোর্স করছি। কোচদের কোচ হচ্ছি। কানন বলেন, ‘প্রচুর খেলোয়াড় রয়েছে কিন্তু কোয়ালিটি নেই। যে কারণে ক্লাব লেভেলে শেখাতে গিয়ে গ্যাম প্ল্যান নষ্ট হয় কোচের। বাংলাদেশে প্রচুর কোচ রয়েছে যাদের ট্রেনিং নেই। আগামীতে কোচিং কোর্সও হবে না। আমরা যারা কোর্স করছি তারাই কোচিং কোর্স করাব। বাফুফে খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে।’