চট্টগ্রাম শহরে ফের গুপ্তহত্যা-অপহরণ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৩

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম মহানগরীতে গুপ্ত হত্যা ও অপহরণের মতো ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বেড়েছে। সম্প্রতি অপহূত এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া গুপ্ত ঘাতকদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হালিশহরের এক ভাড়াটে বাসিন্দার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা কর্তৃক এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে মূল দলের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে অপহূত ব্যবসায়ীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলও উদ্বিগ্ন।

গত ১৫ অক্টোবর সকালে উদ্ধার করা হয় গুপ্ত ঘাতকদের হাতে নিহত দুই ব্যক্তির লাশ। গত দুদিনেও এই দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আরো গভীরতর হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শহরে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভিত্তিক দুর্ধর্ষ সাইলেন্ট কিলার গ্রুপ। সেসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সফলভাবে দমন করেছিল। এরপর চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ ধরনের গুপ্তহত্যা ও অপহরণের ঘটনা কমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলো মানুষকে আবারও আতঙ্কিত করে তুলেছে।

ক্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহল যখন ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন উদ্যোমে শুরু করেছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে দুর্বৃত্তরা আবারও তত্পর হয়ে উঠেছে। যা ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গুপ্ত ঘাতক ও অপহরণকারীদের এর আগে যেভাবে দমন করা হয়েছিল, সে অভিজ্ঞতার আলোকে এদের দমন করা উচিত।

চট্টগ্রামের পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েজের প্রেসিডেন্ট,                সমাজসেবী ও রাজনীতিক শরীফ চৌহান ইত্তেফাককে বলেন, আবারও চট্টগ্রামে গুপ্ত ঘাতক ও অপহরণকারীদের হাতে নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে অপকর্ম শুরু করেছে। চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ডের সুনাম রয়েছে। করোনা বিপর্যয় উত্তর সময়ে মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সে সময় এসব ঘটনা জীবনযাত্রা আবারও ব্যাহত করবে। 

সিএমপির পাহাড়তলী থানার সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বিকাশ এজেন্ট বিজয় কুমার বিশ্বাস অপহরণ এবং তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্ত ও ঘাতকদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এই ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। আশা করা যায়, ঘাতকরা শিগগিরই ধরা পড়বে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। অন্য দিকে, হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হালিশহরের নিরীহ ভাড়াটে বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ঘাতকদের ধরার জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনার মোটিফ এবং কারা কারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল তা বের করার জন্য সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।