রেলওয়ের ব্যারিকেডে কুষ্টিয়ায় সোয়া কিলোমিটার সড়ক বন্ধ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৪

কুষ্টিয়ায় রেলওয়ে বিভাগ ব্যারিকেড দিয়ে নতুন নির্মিত সোয়া কিলোমিটার সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। নাগরিক সেবা ও শহরের যানজট নিরসনে উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে রেলপথসংলগ্ন ড্রেনসহ নতুন সড়কটি সম্প্রতি কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্মাণ করে। কিন্তু পথচারী-যান চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণের পর সড়কটির দুই পাশের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে আকস্মিক বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে বিভাগ।

এতে জনদুর্ভোগসহ শহরবাসীর মধ্যে দারুণ ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এদিকে সড়কটি খুলে দেওয়ার দাবিতে শহরবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও মানববন্ধন করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে শহরের বাবুর আলী রেলগেট থেকে রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত ১৫ ফিট চওড়া আরসিসি পাথর ঢালাই সোয়া কিলোমিটার সড়ক ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি যানবাহনসহ শহরবাসীর চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা নামক প্রধান সড়কের যানজট এড়াতে এ সড়ক ব্যবহার করে আড়ুয়াপাড়া ও কোর্টপাড়াসহ শহরের কয়েকটি এলাকার হাজার হাজার মানুষ পৌরবাজার এবং রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি এ সড়কসংলগ্ন একটি জামে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও গড়ে উঠেছে। এছাড়া সড়কসংলগ্ন বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনও স্থাপন করা হয়েছে। সড়কটি নির্মাণকালে রেলওয়ে বিভাগের জোরালো আপত্তি না থাকলেও নির্মাণের পর গত ৬ অক্টোবর রেলওয়ে পাকশী ডিভিশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান সরেজমিন উপস্থিত হয়ে সড়কটির দুই পাশের প্রবেশমুখেই রেললাইন ঝুলিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি ও পথচারী-যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে এ সড়কটি খুলে দেওয়ার দাবিতে শহরবাসীর একাংশ নামেন আন্দোলনে।

গত ১৮ অক্টোবর রবিবার সকালে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কোর্টপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম খান, কোর্টপাড়া এলাকার রহমত আলী, ইখতিয়ার হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এছাড়া জনস্বার্থে সড়কটি অবিলম্বে খুলে দিতে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী রেলমন্ত্রী, সচিব ও পাকশী রেলওয়ে বিভাগকে লিখিত চিঠি দেন। এদিকে পাকশী রেলওয়ে বিভাগ সূত্র জানায়, রেলপথের উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতায় সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেললাইন থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থপনা না থাকায় সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, রেলওয়ে বিভাগের এ সিদ্ধান্তের ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শহরবাসী। রেলমন্ত্রীসহ ঐ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী বীরবল মণ্ডল জানান, অনুমতি ছাড়াই রেলপথসংলগ্ন সড়কটি কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্মাণ করেছে। রেললাইন ঘেঁষে সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এসআই