স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় প্রেসক্লাবের ইতিহাস গৌরবময়

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২২:১০

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেমিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের জনগণের বাক্স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতীয় প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য রয়েছে। এই ক্লাবের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। বর্তমানে গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন কারণে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণে আমাদের অধিকতর যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬৬ বছর ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে বর্ষীয়ান সাংবাদিকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম।

এতে প্রবীণ সাংবাদিক আমানউল্লাহর দুটি প্রবন্ধ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এর সাবেক প্রধান সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীবের একটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সাংবাদিকতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে গণমাধ্যম মালিকানায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফলে অসাংবাদিক, অসাধু ব্যবসায়ী, নীতিহীন রাজনৈতিক যখন রেডিও, টিভি ও পত্রিকার মালিক হয় এবং তারা নিজেরাই সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন স্বভাবতই গণমাধ্যমের চরিত্র বদলে যায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ী স্বভাবতই সাংবাদিকতাকে প্রভাবিত করে। তখন সত্ সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত হয়ে যায়।

ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান এমপি বলেন, গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার হয়েছে, কিন্তু সংবাদ পরিবেশন বা সাংবাদিকতার মানের উন্নয়ন হয়নি। এ বিষয়ে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নাই।’ সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকদের চাকচিক্য বেড়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব এখনো একটি আস্থার নাম। যার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেই দাবি পৌঁছায়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় প্রেসক্লাবের জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি নবীন সাংবাদিকদের বিষয়ে বলেন, ‘সাংবাদিকতার মান বাড়াতে আমাদের কাজ করতে হবে।’ 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছু টিকলেও পেশা টিকিয়ে রাখা যায় না। এখন পেশার স্বার্থে ছোট ছোট ভাগে সাংবাদিকরা বিভক্ত হয়ে পড়ছে, এতে সাংবাদিকরাই শক্তিহীন হয়ে পড়ছে, এটা চিন্তার বিষয়।

ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক, সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, জাহিদুজ্জামান ফারুক, শাহেদ চৌধুরী, স্বপন কুমার সাহা, সোহরাব হাসান, সাজ্জাদ আলম তপু প্রমুখ।