টাকা ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় সেতু শ্রমিকের ছুরিকাঘাতে খুন

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৫

পিরোজপুর অফিস

পিরোজপুরে বেকুটিয়ায় কঁচা নদীতে নির্মাণাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে কর্মরত চীনের নাগরিক লাও প্যান ইয়াংজুন (৫৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি হোসেন সেখ (১৯) এবং তার সহযোগী ছাব্বির আহম্মেদকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে একথা জানান পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃত হোসেন সেখ পিরোজপুর সদর উপজেলার মরিচাল এলাকার সোরাব সেখের ছেলে এবং সাব্বির সেখ একই এলাকার হায়দার আলী সেখের ছেলে। ডিআইজি জানান, ব্যাপক তদন্তের পর ঘটনার মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দুর্ঘটনাবশত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বলেন, গ্রেফতার ছাব্বির নির্মাণাধীন ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে কর্মরত একজন স্থানীয় শ্রমিক। সে প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে কাজ করে আসছে। চীনা নাগরিকের মূল ঘাতক হোসেন সেখ হচ্ছে ছাব্বিরের বন্ধু। ছাব্বিরের সুপারিশে গত মার্চ মাসে সেতুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয় হোসেন। হোসেনের কাজ ভালো না হওয়ায় তাকে মাত্র ১৪ দিন পরে কাজ থেকে বাদ দেন প্যান ইয়াংজু। এ সময় হোসেন তার কাজের ব্যবহূত হেলমেটটি নিয়ে যায়। পরের মাসে বেতন দেওয়ার সময় প্যান ইয়াংজুন হেলমেট বাবদ ৫০০ টাকা কেটে রাখেন। এ ক্ষোভ থেকে ইয়াংজুনর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে হোসেন। তাই ইয়াংজুন কখন কীভাবে শ্রমিকদের বেতনের টাকা নিয়ে যান তা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। পরে ছাব্বিরের সঙ্গে যোগসাজশে তারা দুই জনে প্যান ইয়াংজুনর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইয়াংজুন শ্রমিকদের বেতন দিতে ব্যাগে করে ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা নিয়ে বাইসাইকেলে করে চায়না ব্যারাকের বাসস্থান থেকে সেতুর নির্মাণকাজের স্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইয়ের সময় ইয়াংজুন বাধা দেওয়ায় হোসেন তাকে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াংজুনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।