সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদীর ভাঙনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী-জমি বিলীন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২৫

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এড়াছাও হুমকির মুখে পড়েছে আরো শতাধিক বসতবাড়ি ও আবাদী জমি।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর, নলডাঙ্গা, জামালপুর, দামোদরপুর, কামারপাড়া ও বনগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে এই ঘাঘট নদী। গত সেপ্টেম্বর মাসে অসময়ের ৫ম দফা বন্যার পর সম্প্রতি নদীর পানি কমতে থাকায় এই ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে জামালপুর ইউনিয়নে পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া), নলডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা ও কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরানলক্ষীপুর গ্রামে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডলকে তার ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া) নামকস্থানে দেখা যায় নদী ভাঙন পরিদর্শনে।

তিনি জানান, এ ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যে পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া) খবির উদ্দিন, জরিপ মিয়া ও দফির উদ্দিনসহ আরো ১০ জনের ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীর পেটে। একই সঙ্গে ফসলী জমিও বিলীন হয়েছে অনেকের। এছাড়া সাহেব উদ্দিন, আফছার আলী ও সামাদ মুন্সীর বাড়িসহ আরো অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। হুমকির সম্মুখিন এসব পরিবারের মানুষরা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র। নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষজনের মধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে সড়ক বা অন্যের জমিতে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

নদী ভাঙনে সর্বহারা পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া) জরিপ মিয়া জানান, এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের কোন খোঁজ-খবর নেওয়া হয় নাই।

ক্ষতিগ্রস্ত একই গ্রামের খবির উদ্দিন নামের অপর এক বৃদ্ধ বলেন, দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। এরই মধ্যে ঘাঘট নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে আসছি। এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছি। 

একই গ্রামের সফুরা বেওয়া নামের আরেক বৃদ্ধা বলেন, ঘাঘট ভাঙনের তাণ্ডবে ঝঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি। যে কোন মহূর্তে চলে যেতে পারে নদীর পেটে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ছি।    

দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের ফুল মিয়া জানান, ইতিমধ্যে তার ১ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই আবাদি জমিটুকু দিয়ে তার পরিবারের খাদ্যের যোগান হত।  এখন তা ঘাঘটের পেটে।

কামারপাড়া ইউপির পুরানলক্ষীপুর গ্রামের মৃত গোলজার রহমানের স্ত্রী সত্তরোর্ধ্ব আমিনা বেগম জানান, বাড়ী ঘর ভেঙে এখন নদীর পেটে। এখন কোথায় আশ্রয় নিবে, তার কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই জন্য প্রাথমিক জরিপ কাজ চলমান আছে। জরিপ শেষে প্রকল্প প্রণয়ন করে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে শীঘ্রই পাঠানো হবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম