ঝিনাইদহ জেলায় ফসল ও পুকুরের মাছের সঙ্গে শত্রুতার ঘটনা বাড়ছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ফসলের খেত কেটে নষ্ট করছে। আবার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলছে। আর এ ফসল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোমবার কালীগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। গত চার মাসে এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ জুন কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামের কৃষক টিপু সুলতান ও তার ভাই শহিদুল ইসলামের ১৫ কাঠা জমির কলাগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা; একইভাবে ৩ জুলাই মল্লিকপুর গ্রামের সবজিচাষি মাজেদুল মন্ডলের বেথুলী মাঠের আড়াই বিঘা জমির তিন শতাধিক পেঁপে; ৭ জুলাই ফয়লা গ্রামের আবু সাঈদের ১৫ শতক জমির করলা খেত; ১৩ জুলাই ঘোপ গ্রামের আব্দুর রশিদের দেড় বিঘা জমির শিম খেত এবং ৯ আগস্ট তিল্লা গ্রামের বিকাশ বিশ্বাসের ১৫ শতক জমির করলা খেত; ২৮ আগস্ট সাইটবাড়িয়া গ্রামের মাছচাষি ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম নান্নুর পুকুরে বিষ দিয়ে দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ ও একই দিন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামে মাছচাষি মমরেজ আলীর মাছের খামারে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করে দুর্বৃত্তরা। ৩১ আগস্ট রাড়িপাড়া গ্রামে ৪৮ শতক জমির দার্জিলিং লেবু ও থাই পেয়ারার কলম কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা; ২৫ আগস্ট বলরামপুর গ্রামের মাছচাষি মমরেজ আলীর পুকুরে একইভাবে বিষ দিয়ে দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দেয়; ৬ সেপ্টেম্বর সাইটবাড়িয়া গ্রামের বাপ্পি মোল্যার ৯ শতক বেগুন খেত; ১৪ সেপ্টেম্বর খয়েরতলা গ্রামের রফি বিশ্বাসের পুকুরে বিষ দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন; ২১ সেপ্টেম্বর রাতে চাপালী গ্রামে আতিয়ার রহমানের প্রায় এক বিঘা জমির লাউ গাছ, ১০ অক্টোবর রাতে দুধরাজপুর গ্রামে লিংকন বিশ্বাসের শতাধিক লাউগাছ ও একই রাতে গয়েশপুর গ্রামে বিশারত মন্ডলের খেতের ফুলকপির বীজতলার চারা কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া গত ১১ অক্টোবর রাতে বড় শিমলা গ্রামে নূর ইসলামের ২৩ শতক জমির লাউ গাছ; ১৩ অক্টোবর গয়েশপুর গ্রামে কৃষক বাপ্পি হোসেনের ১৪ কাঠা জমির পুঁইশাক, একই দিন বিজয়পুর গ্রামে মকিদুল ইসলামের প্রায় এক বিঘা জমির কলাগাছ; ১৫ অক্টোবর নিয়ামতপুর গ্রামে কৃষক আলম হোসেনের ২৬ শতক জমির লাউগাছ এবং ১৬ অক্টোবর পুকুরিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. হাবি খার ২০ শতক জমির ২০০ মরিচ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, ফসলের খেত ও পুকুরের মাছ নষ্ট করার ঘটনায় তিনটি মামলা ও ছয়-সাতটি জিডি হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক শত্রুতাবশত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করছে। এসব ঘটনায় এরই মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাঈদ বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
