কবরস্থানের জন্য জমি পেল মানিকগঞ্জের বেদে ও শান্দার সম্প্রদায়

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের হাট বাসুদেবপুর গ্রামে প্রায় ৫০ বছর আগে বসতি গড়ে কিছু বেদে ও শান্দার পরিবার। বর্তমানে তাদের সংখ্যা ১৬৩। এদের কারো কারো মাথা গোঁজার ন্যূনতম ঠাঁই থাকলেও ২০টি পরিবার বসবাস করে নৌকায়। এ দুই জনগোষ্ঠীর ভোটার সংখ্যাও সাড়ে ৩০০। বেদে ও শান্দার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, ইতিপূর্বে এলাকার একটি কবরস্থানে তাদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে কবর দেওয়া হলেও বিগত এক বছর যাবত্ ঐ কবরস্থানে ভূমি স্বল্পতার অজুহাতে আর সে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এখন বেদে ও শান্দার সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করা হচ্ছে তাদের নিজ নিজ বসতবাড়িতেই। ফলে বেদে ও শান্দারপাড়া ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে কবরস্থানে।

এ অবস্থায় তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সমাজসেবী ও মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব মামুন চৌধুরী। তিনি বেদে ও শান্দারদের জন্য আলাদা কবরস্থান করার জন্য ১৩ শতাংশ জমি কেনার জন্য সোয়া লাখ টাকা বায়না দেন। যার মধ্যে এক লাখ টাকা তার নিজের, ১০ হাজার টাকা এক প্রবাসীর অনুদান এবং ১৫ হাজার টাকা বেদেদের। মামুন চৌধুরী জানান, স্থানীয় কিছু প্রবাসীর অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও কেউ আর তা দেননি। বেদে ও শান্দারদের পক্ষেও বাকি টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি যোগাযোগ করেন গাজীপুর জোনের সিআইডির এএসপি এনায়েত করিম রাসেলের সঙ্গে। তিনি কবরস্থান নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তিনি অনুদান দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার হাবিবুর রহমান ও এনায়েত করিম রাসেল প্রস্তাবিত কবরস্থানের বায়নাকৃত জমি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা পুরো কবরস্থানের ভূমির মূল্য, মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়াও, যারা এখনো নৌকায় বাস করেন, তাদের জমি ক্রয় ও ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করবেন বলে হাবিবুর রহমান আশ্বাস দেন।