বেপরোয়া হিলির মাদক ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৭

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের বিভিন্নস্থানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হিলি চেকপোস্ট থেকে হিলি সিপি বিজিবি ক্যাম্পের প্রধান ফটকের দূরত্ব মাত্র ৩০০ মিটার। আর এই দূরত্বের মাঝখানে অবস্থিত বালুরচর বস্তি। আবার প্রায় ২০০ মিটার পশ্চিমে ভারত সীমান্ত। এখানকার বালুরচর বস্তিটি এখন সবার কাছে মাদকের ঘাঁটি হিসেবেই বেশ পরিচিত। করোনার মধ্যেও পুরোদমে চলছে এখানে মাদক কেনা-বেচা আর সেবনের আড্ডা-আসর। এছাড়া উপজেলার চুড়িপট্টি, মাঠপাড়া, বাওনা, নওপাড়া, সাতকুড়ি, নয়ানগর ও ডাঙ্গাপাড়া বাজার এলাকায় মাদকের কেনা-বেচা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েদের দিয়েও তাদের পরিবারের লোকজনেরা এসব কাজে সম্পৃক্ত করছে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. লিয়াকত আলী অভিযোগ করে বলেন, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই কারবারিরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত লাগোয়া রেলওয়ের বালুরচর জায়গাটি অবৈধভাবে দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে। তারা বছরের পর বছর বসবাস করছে। এই অবৈধ বাড়িঘরে বেচা-কেনা হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, প্যাথেডিন ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। তিনি আরো জানান, এখানে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অপরাধও সংঘঠিত হয়। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও অপরাধীদের কাছে বালুরচর বস্তিটি এখন নিরাপদ জায়গা। এখানকার মাদকের আখড়া সবার কাছে ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় সিপি রোডের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, বালুরচর বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকার মাদকের বেচা-কেনা হয়ে আসছে। এর আগে থানা পুলিশের সহযোগিতায় বস্তিটির মাদকের জমজমাট আসর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন বন্ধ থাকার পর আবারও এখানকার মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

হাকিমপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার সাংবাদিকদের জানান, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই, মাদক নির্মূলে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আমি হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) বালুরচর বস্তিসহ হিলি সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে অবগত করব। তিনি যেন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।