যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল
আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালুর প্রক্রিয়া। কবেনাগাদ এখানে ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। চার মাস আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পুরোনো ছয় আইসিইউ ভেন্টিলেটর পাঠানো হলেও আইসিইউ বেড ও মনিটরের অভাবে ইউনিটটি চালু করা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের সাড়া পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। এরই মধ্যে অবশ্য কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালুর কাজটি এগিয়ে চলেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, যশোরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১২ এপ্রিল। এরপর বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৫২ জন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৭৯ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ৪৮ জন। শুরু থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় হাসপাতালে বেশকিছু রোগী এসেছেন যাদের আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে সুবিধা না থাকায় রোগীদের বেসরকারি একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় খুলনা ও ঢাকায় চিকিত্সা নেন অনেকে।
এ অবস্থায় চিকিত্সা সুবিধার জন্য আইসিইউ ভেন্টিলেটর চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের সে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ইএনটি হাসপাতালে পড়ে থাকা ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর যশোর জেনারেল হাসপাতালের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পেয়ে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের জন্য হাসপাতালের ৬ নম্বর মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডটি খালি করে মেরামত করা হয়। এখানে অবশ্য আইসিইউর পাশাপাশি এসডিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটও স্থাপন করা হবে। কিন্তু সব প্রস্তুতি শেষ করে চার মাস পার হলেও মেলেনি আইসিইউ বেড ও মনিটর। কবে তা আসবে, কেউ তা জানেনও না। চিঠি চালাচালি আর সভার আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে আইসিইউ স্থাপন প্রক্রিয়া। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাটি অনিশ্চয়তার দোলাচলে আটকে আছে।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় ইত্তেফাককে বলেন, গত জুন মাসে পুরাতন ছয় আইসিইউ ভেন্টিলেটর পাওয়া গেছে। এরপর থেকে আমরা ইউনিট চালুর জন্য একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করি। কিন্তু এর জন্য অপরিহার্য আইসিইউ বেড ও মনিটর পাওয়া যায়নি। আমরা লাইন ডাইরেক্টর এবং মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন চলতি অর্থবছরেই এসব কেনাকাটা শেষ করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেন্ডামিক প্রিপেয়ারনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. সব্যসাচী দাস মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, আমি যশোরের চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। এখনো জবাব পাইনি। এটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কবেনাগাদ পাওয়া যাবে বলতে পারছি না। আর আমি এক মাস জয়েন করেছি। নতুন মানুষ। এখনই সব প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছি না।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, আইসিইউ বেড ও মনিটর পাইনি বলে ইউনিটটি চালু করা যায়নি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আমাদের আছে। প্রয়োজন হলে আমরা স্থানীয় দাতাদের সহায়তায় বেড ও মনিটর সংগ্রহ করে আইসিইউ চালু করব। অবশ্য আইসিইউর জন্য কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থার কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই হাইফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।
