সাগরে লঘুচাপে টানা বর্ষণ, আমন ধান ও সবজির ক্ষতি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৭

ইত্তেফাক ডেস্ক 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। এতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান ও শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে বেশি। 

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমন ধানে পচন ধরার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টিপাতে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। পালংখালী ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধারাবাহিক বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর চিংড়িঘেরে চাষ করা আমন ধান ডুবে গেছে। আনজুমানপাড়া গ্রামের কৃষক ছালামত উল্লাহ জানান, তিনি দুই একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন। ধানে থোর পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাত্ বৃষ্টিতে ধানখেত ডুবে যাওয়ায় উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। 

পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার জানান, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় অধিকাংশ জমি এমনিতেই পতিত রয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের বর্জ্য, বাসস্থান ও চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় এসব জমিতে বর্তমানে আমন চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে একাধিক জমিজমা খালি পড়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় গত কয়েক দিনের বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষকদের আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চতুর্থ দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে             শত শত হেক্টর জমির আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ?তি হ?য়ে?ছে। হালকা বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে দমকা বাতাসের কারণে উপজেলার ৬৬টি পূজামণ্ডপে নেই কোনো আনন্দ উত্সব।  

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া হালকা বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে উপজেলার নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ী, ফুলবাড়ী সদর, কাশিপুর, ভাঙ্গা মোড় ও বড়ভিটা ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমির আমনখেত মাটিতে হেলে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা, পূর্ব ফুলমতি, নাওডাঙ্গা, পশ্চিম ফুলমতি, গজেরকুটিসহ ৯টি গ্রাম।

এছাড়া বাতাসে বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, লালশাকসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। উপ?জেলা কৃ?ষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে  উপজেলায় ১১ হাজার  ৭২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। গত চার দিনের বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২৩০ হেক্টর আমন ধানের গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে।

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বুধবার ভোররাত থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে বরগুনা জেলা শহরসহ ছয়টি উপজেলা সদর ও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর ও রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

 বরগুনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও আমতলী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বরগুনা সদরসহ সব কটি উপজেলার কৃষি খামার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। শাক-সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর  ১২টা পর্যন্ত বিষখালী, বুড়ীশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শনিবার থেকে পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। সড়কে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত ভারী বর্ষণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। বৃষ্টির পানিতে বেশ কয়েকটি মাছের ঘের আর পুকুরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রচুর মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ঝোড়ো হাওয়ায় আমন ধান ও সবজিখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আধা পাকা আমন ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার ধানখেত পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে শারদীয় দুর্গোত্সব নিয়ে বিপাকে পড়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। গত শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম মিয়া (৫৫) জানান, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমির আমনখেতের মধ্যে তিন বিঘা জমির ফসল ঝোড়ো হাওয়ায় মাটিতে হেলে পড়েছে। এভাবে ঝোড়ো হাওয়া চলতে থাকলে হেলে পড়া ধানখেত সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমার ৪০ হাজার টাকা লোকসান হবে।

কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান জানান, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। শাক-সবজির চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। তিনি বলেন, এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।